|
|
|
| |
| এইচআইভি, ভর্তি রুখতে মারমুখী জনতা |
| নিজস্ব সংবাদদাতা • বর্ধমান |
পাঁচ ‘এইচআইভি পজিটিভ’ বালক-বালিকাকে সরকারি স্কুলে ভর্তি করানোর দ্বিতীয় চেষ্টাও বিফলে গেল। উল্টে কিছু মারমুখী গ্রামবাসীর হুমকির মুখে পড়তে হল প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরের অফিসারদের। হুমকি দেওয়া হল সংবাদমাধ্যমকেও।
এড্সে বাবা-মা হারানো ওই পাঁচ বালক-বালিকা বর্ধমান ১ ব্লকে ঝিঙ্গুটির একটি বেসরকারি হোমের বাসিন্দা। দু’টি মেয়ে, তিনটি ছেলে। তাদের তিন জনকে প্রথম শ্রেণিতে, দু’জনকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করানোর চেষ্টা চলছে। বেশ কিছু দিন টালবাহানার পরে গত ১২ অগস্ট ঝিঙ্গুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, গ্রামবাসীর আপত্তি থাকায় ওই পাঁচ জনকে ভর্তি নেওয়া সম্ভব নয়।
বরফ গলাতে বৃহস্পতিবার হোম কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা দফতরের প্রতিনিধিদের নিয়ে স্কুলে সভা করতে যান ভারপ্রাপ্ত বিডিও সুমিতা সেনগুপ্ত, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সুব্রত দে প্রমুখ। কিন্তু গ্রামের কিছু লোকজন কোনও কথা শুনতে চাননি। সভার শুরুতে বিএমওএইচ বলতে যাওয়া মাত্রই তাঁকে বলেন, ‘আপনার কথা শুনতে চাই না। আপনি বসুন। এই স্কুলে খারাপ রোগীদের ভর্তি করানো যাবে না।’ ভারপ্রাপ্ত বিডিও বোঝানোর চেষ্টা করেন, ‘এইচআইভি পজিটিভ’ মানে এড্স রোগী নয়, তাদের থেকে সংক্রমণ ছড়ানোরও আশঙ্কা নেই। কিন্তু লাভ হয়নি।
ক্ষিপ্ত লোকজনের নেতৃত্বে ছিলেন গৌতম সাঁই, গোপাল সাঁই, মহম্মদ ফারুক, শেখ গোলাম রসুল নামে কয়েক জন। তাঁরা উল্টে বলতে থাকেন, ‘এদের লেখাপড়া শেখানোর দরকারটা কী? আর, এটাই কি পৃথিবীর এক মাত্র স্কুল যে এখানে এদের পড়াতে হবে?’ হোমের তরফে আসা লোকজনকে যথেচ্ছ গালিগালাজ করা হয়। গ্রামে যাওয়া লোকজনের মধ্যে সংবাদমাধ্যমের কেউ ‘লুকিয়ে’ আছে কি না, সে খোঁজও করা হতে থাকে। বিডিও এবং বিএমওএইচ প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁদের আটকে রাখার হুমকি দেওয়া হয়। কয়েক জন বলতে থাকেন, ‘বাচ্চাগুলোকেও ঘরে আটকে রেখে চলে যাব। দেখি, কে ওদের বাঁচায়! সংবাদমাধ্যম বাড়াবাড়ি করলে তাদেরও ছাড়া হবে না।”
সভা পণ্ড হয়ে যেতে ভারপ্রাপ্ত বিডিও বেরিয়ে গাড়িতে উঠলে গৌতমবাবুরা বলতে থাকেন, “আপনি জোর করে পাঁচ রোগীকে আমাদের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছেন, সেটা লিখে দিয়ে যান।” কিছু লোকজন গাড়ি আটকানোরও চেষ্টা করেন। সরকারি কর্মী-অফিসারদের উদ্দেশে বলা হতে থাকে, “পরের বার এলে ঠ্যাং ভেঙে দেব! স্কুলে ঢোকার রাস্তা কেটে দেব।” জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি স্বপনকুমার ঘোষ বলেন, “ফের এলে গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।” জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক তন্ময় মুখোপাধ্যায় বলেন, “এই নিয়ে শুক্রবার আমরা জেলাশাসকের সঙ্গে বৈঠকে বসছি।”
জরুরি কাজ থাকায় বর্ধমান (উত্তর) মহকুমাশাসক প্রশান্ত অধিকারী ঝিঙ্গুটিতে যেতে পারেননি। সন্ধ্যায় তিনি বলেন, “গ্রামের মানুষ উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেছেন। ওঁদের বুঝতে হবে, কোনও ‘এইচআইভি পজিটিভ’ ক্লাস করলে তার থেকে রোগ ছড়াবে না। আমরা ফের গ্রামবাসীদের নিয়ে বৈঠকে বসব।” |
|
|
 |
|
|