গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ১৭ বছর আগে শেখ হাসিনার জনসভার কাছে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১০ আসামিকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। আদালত বলেছে- হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে তাদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গুলি করে প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক। ঢাকার ২ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মমতাজ বেগম রবিবার এ রায় দেন।

এই মামলায় ৯ জন আসামিকে একই ঘটনার বিস্ফোরক আইনের অন্য মামলায় দেওয়া হয়েছে ২০ বছর করে কারাদণ্ড। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানের অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় এ মামলা থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা মহম্মদ মহিবুল্লাহ, মুন্সি ইব্রাহিম, মহম্মদ মাহমুদ আজহার, মহম্মদ রাশেদ ড্রাইভার, মহম্মদ শাহ নেওয়াজ, মহম্মদ ইউসুফ, মহম্মদ লোকমান, শেখ মহম্মদ এনামুল এবং মহম্মদ মিজানুর রহমান।

আরও পড়ুন: লাদাখে ভারতীয় ও চিনা সেনার মারপিটের ভিডিও
 

২০০০ সালের ২২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া সফর উপলক্ষে কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান সরকারি আদর্শ কলেজ মাঠে একটি প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছেিল। আওয়ামি লিগের জনসভার  সেই প্যান্ডেলের নীচে মাটিতে ৭৬ কেজি ওজনের একটি শক্তিশালী বোমা পুঁতে হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। গোয়েন্দা তৎপরতায় বিষয়টি সামনে আসে।

পরে সেনাবাহিনীর একটি দল শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করে। গোয়েন্দা এবং সেনাবাহিনীর তৎপরতায় বেঁচে যান হাসিনা। পরদিন ২৩ জুলাই সেখান থেকে ৪০ কেজি ওজনের আরও একটি বোমা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় ওই দিনই কোটালীপাড়া থানার সাব ইন্সপেক্টর  নূর হোসেন একটি মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন: দায় কার? রেলের মধ্যেই চলছে দোষারোপ, পাল্টা দোষারোপ

২০০১ সালের ৮ এপ্রিল সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সি আতিকুর রহমান গোপালগঞ্জের আদালতে মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১০ সালে মামলাটি ঢাকার ২নং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। সর্বশেষ ১০ অগস্ট সরকারি ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের উপস্থাপন শেষে ১৭ অগস্ট চূড়ান্ত রায়ের দিন ধার্য করেছিল ট্রাইব্যুনাল।