সরকারি সুপারিশ মেনে ডুয়ার্স ও তরাইয়ের চা বাগানে শ্রমিকদের বর্ধিত মজুরি দিতে রাজি হলেও আর্থিক সমস্যার জন্য দার্জিলিঙের বাগানগুলি আরও কিছুটা সময় চায়।

গত বছরের মার্চে বাগানগুলিতে মজুরি সংক্রান্ত পুরনো চুক্তি শেষ হয়ে গিয়েছে। তার পরে বার কয়েক বৈঠক হলেও এখনও পর্যন্ত শ্রমিক ও বিভিন্ন বাগান কর্তৃপক্ষের মধ্যে এ নিয়ে নতুন চুক্তি হয়নি। গত ডিসেম্বরে উত্তরকন্যায় ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের পরে রাজ্য সরকার বাগানগুলিকে জানায়, মজুরি সংশোধন বা অন্যান্য বিষয়ে ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত এ বছরের জানুয়ারি থেকে দৈনিক মজুরি ১৩২.৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করতে হবে। অন্তর্বর্তী বৃদ্ধির পরিমাণ অল্প হওয়ায় শ্রমিক ইউনিয়নগুলির একাংশের মধ্যে অবশ্য আপত্তি ছিল। তবে ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশেনর সেক্রেটারি জেনারেল অরিজিৎ রাহা সোমবার জানান, ডুয়ার্স ও তরাইয়ের বাগানগুলিতে বর্ধিত মজুরি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তবে দার্জিলিঙের বাগানগুলি এখনই বাড়তি মজুরি দিচ্ছে না। অরিজিৎবাবু ও দার্জিলিং টি অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল কৌশিক বসু জানান, তাঁরা আরও কিছুটা সময় চান। কারণ, পাহাড়ে আন্দোলনের জন্য গত বছর প্রায় পুরো মরসুমই ওই বাগানগুলিতে চা তৈরি হয়নি। এ বছর এখনও উৎপাদন শুরু হয়নি। ফলে দীর্ঘ দিন ধরে বাগানগুলির আয় নেই। নতুন করে উৎপাদন শুরু না হওয়া পর্যন্ত এখনই বর্ধিত মজুরি দিতে তাঁরা আপারগ বলে রাজ্যকে জানিয়েছেন।

অন্য দিকে, রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক এ দিন জানান, চা বাগানে মজুরি সংশোধন-সহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে ফের ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হবে উত্তরকন্যায়। তাঁদের আশা, সেই বৈঠকে নতুন চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।