এই অর্থবর্ষে রাজকোষ ঘাটতির লক্ষ্য পূরণ করা নিয়ে সংশয়ে নতুন করে ইন্ধন জুগিয়েছে কেন্দ্রের বাজার থেকে ফের ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত। তবে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক পরামর্শদাতা কমিটির অন্যতম সদস্য তথা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাবলিক ফিনান্স অ্যান্ড পলিসি-র ডিরেক্টর রথীন রায়ের মতে, কেন্দ্র ওই লক্ষ্য অর্জনে সব রকম ভাবে চেষ্টা করবে।

২০১৭-’১৮ সালে রাজকোষ ঘাটতিকে জিডিপি-র ৩.২ শতাংশের মধ্যে বাঁধার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু অক্টোবর পর্যন্ত দেখা গিয়েছে, ওই ঘাটতি তার প্রায় ৯৬ শতাংশের সীমা পেরিয়েছে। জিএসটি থেকে আয় ক্রমশ কমছে বলে ধরা পড়েছে সরকারি হিসেবেই। উপরন্তু কেন্দ্র সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা বাজার থেকে অতিরিক্ত ৫০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেবে। যা রাজকোষ ঘাটতির লক্ষ্য পূরণ নিয়ে সংশয় আরও বাড়ায় বিশেষজ্ঞ মহলে। আরপি সঞ্জীব গোয়েন্‌কা গোষ্ঠীর ইন্টারন্যাশনাল ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটে এক সভার পরে সম্প্রতি এ নিয়ে রথীনবাবুর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘‘আমি নিশ্চিত, ঘাটতিকে ৩.২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় বেঁধে রাখতে সরকার আপ্রাণ চেষ্টা চালাবে।’’

কিন্তু ঋণের সীমা বাড়ানোর প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে চাননি তিনি। বলেছেন, ‘‘এ নিয়ে এখনই সব তথ্য আমার কাছে নেই। সে সব না দেখে কিছু বলতে পারব না।’’ তবে একই সঙ্গে রথীনবাবুর বক্তব্য, বাড়তি ঋণ পুরনো ঋণের সুদ মেটাতেও কাজে লাগানো হতে পারে। যদিও তাঁর দাবি, ‘‘সরকার কী করবে আমি জানি না।’’

এ দিকে, সাম্প্রতিক কালে পশ্চিমবঙ্গে কর আদায় অনেকখানি বেড়ে যাওয়াকে উল্লেখযোগ্য ঘটনা বলে মনে করেন রথীনবাবু। তাঁর দাবি, বাম আমলে রাজ্যের কর আদায় দেশের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই অবস্থার উল্লেখযোগ্য বদল হয়েছে।