ফের ফণা তুলছে মূল্যবৃদ্ধির সরীসৃপ। আর, সেই ঝুঁকির দিকে তাকিয়ে প্রত্যাশা মতোই বুধবার ঋণনীতি ফিরে দেখতে বসে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। সরকারের বিপুল খরচ ও রাজকোষ ঘাটতির বাড়তি বোঝা জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় আরও ইন্ধন জোগাতে পারে বলেও জানিয়েছে শীর্ষ ব্যাঙ্ক। এই নিয়ে পরপর তিন বার সুদ কমানোর পথে হাঁটল না তারা।

ব্যাঙ্কিং বিশেষজ্ঞ, শিল্প মহল ও শেয়ার বাজার আগেই আন্দাজ করেছিল যে, এ যাত্রায় সুদ কমাবে না রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। বাস্তবেও সেই রায়ই দিয়েছে ছ’সদস্যের ঋণনীতি কমিটি। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার সময় যে আসেনি, তা ঠারঠোরে জানিয়েও দিয়েছেন গভর্নর উর্জিত পটেল। এ দিন ঋণনীতি পর্যালোচনায় তিনি যে সম্ভাবনাগুলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তার মধ্যে রাজকোষ ঘাটতি এবং মূল্যবৃদ্ধি ছাড়াও রয়েছে লগ্নিতে উৎসাহ দিতে এক সময়ে দেওয়া সুবিধাগুলি বাজেটে কাটছাঁট করা। যেমন, দীর্ঘ মেয়াদি মূলধনী লাভে ও ডিভিডেন্ড বণ্টনের উপর কর বসানো, বড় সংস্থার ক্ষেত্রে কোম্পানি কর না কমা ইত্যাদি। পাশাপাশি, সরকারি কর্মীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা অনেকটা বাড়ার প্রভাবও মূল্যবৃদ্ধির উপর পড়বে বলে সাবধান করেছেন উর্জিত।

শিল্পমহল সুদে স্থিতাবস্থা বজায় থাকবে বলে কিছুটা আন্দাজ করলেও তাদের একাংশের ধারণা, সুদ অল্প কমলে বেসরকারি লগ্নির হাল ফেরানো যেত। শেয়ার বাজার এ দিন ১১৩ পয়েন্ট পড়েছে। সকালের দিকে সেনসেক্স ৪৭০ পয়েন্টের মতো উঠলেও, তা ধরে রাখতে পারেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর কারণ আরবিআইয়ের সুদ না কমানো ছাড়াও বৃদ্ধির পূর্বাভাস ছাঁটা। পণ্য ও পরিষেবার মোট যুক্তমূল্যের ভিত্তিতে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষের জন্য তা ৬.৭% থেকে কমিয়ে ৬.৬% করেছে তারা। তবে পতনের ঝোড়ো হাওয়া থমকে দাঁড়ালেও বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই মতে, বাজারের সংশোধন শেষ হয়নি। তাই সূচকের পতন স্তিমিত হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস এখনই ফেলতে পারছেন না লগ্নিকারীরা।

এক ঝলকে

• রেপো রেট ৬ শতাংশে অপরিবর্তিত

• রিভার্স রেপো রেট ৫.৭৫ শতাংশে, ব্যাঙ্ক রেট ৬.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত

• চলতি অর্থবর্ষের শেষ তিন মাস জানুয়ারি-মার্চে খুচরো বাজারের মূল্যবৃদ্ধি ৫.১% ছোঁয়ার ইঙ্গিত

• নতুন অর্থবর্ষের প্রথম ছ’মাসে তা ৫.১-৫.৬ শতাংশে থাকার সম্ভাবনা

• দ্বিতীয় ভাগে তা নামতে পারে ৪.৫-৪.৬ শতাংশে

• জানুয়ারিতে এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়েছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম

• পণ্য ও পরিষেবার মোট যুক্তমূল্য (জিভিএ) অনুসারে চলতি অর্থবর্ষে বৃদ্ধি ৬.৬% ছোঁয়ার সম্ভাবনা

• নতুন আর্থিক বছরে তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৭.২%

• থিতু হচ্ছে জিএসটি জমানা, যা পথ দেখাবে ব্যবসা–বাণিজ্য বাড়ার

• ব্যাঙ্কে নতুন মূলধন জোগানোর জেরে বা়ড়তি ঋণ দিতে পারে তারা

• বিশ্ব বাজারের হাত ধরে রফতানির হাল ফেরার আশা