ফসলের ন্যূনতম দাম যার ভিত্তিতে ঠিক হবে, সেই চাষের খরচ হিসেব করার সময় জমি লিজ নিতে গোনা টাকা কিংবা ধারের অঙ্ক ধরবেই না মোদী সরকার। শুক্রবার রাজ্যসভায় জবাবি বক্তৃতায় শেষমেশ বিষয়টি খোলসা করলেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। যা শুনে কংগ্রেস সমেত বিরোধীদের কটাক্ষ, এ আর তবে নতুন কী? তাদের মতে, আদপে এটিও এই সরকারের নতুন ‘জুমলা’। পুরনো মদকেই ফের নতুন বোতলে চালানোর চেষ্টা।

২০১৯ সালের লোকসভা ভোটকে পাখির চোখ করে এ বার বাজেটে ঢাক পিটিয়ে জেটলি ঘোষণা করেন, ফসলের ন্যূনতম দাম হিসেবে চাষের খরচের দেড় গুণ টাকা দেবে কেন্দ্র। তখন থেকেই প্রশ্ন উঠছিল, চাষের খরচ হিসেবে কোন পদ্ধতি ধরা হবে?

আজ রাজ্যসভায় জেটলি খোলসা করলেন, শুধু সার, সেচ, বীজ, কীটনাশকের মতো উপকরণের খরচ ও পরিবারের সদস্যদের আনুমানিক মজুরি যোগ করেই চাষের খরচ ধরা হবে। তারই দেড় গুণ ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ঘোষণা করবে সরকার।

চাষের খরচ হিসেব করার তিনটি পদ্ধতি আছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এ দিন জানতে চান, সরকার দ্বিতীয় পদ্ধতিতেই হিসেব করবে কি? জেটলি জানান, তেমনই ভাবনা।

এর পরে কৃষক সংগঠনের নেতারা অভিযোগ তোলেন, এ হল মোদী সরকারের আর একটি প্রতারণা। কারণ, এম এস স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশ ছিল, ফসলের দাম হওয়া উচিত চাষের সার্বিক খরচের দেড় গুণ। সর্বভারতীয় কৃষক সভার নেতা হান্নান মোল্লা বলেন, ‘‘(জেটলি যা বললেন) ওই হিসেবে ফসলের দাম তো ইউপিএ সরকারই দিয়েছিল। তা হলে নতুন কী হল? অথচ বিজেপিই ইস্তাহারে কথা দিয়েছিল, স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশ মানার।’’ তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বাজেটে জেটলি ফসলের দাম খরচের দেড় গুণ হবে বললেও, ওই কমিটির নাম উল্লেখ করেননি। প্রশ্ন উঠছিল সেই কারণেই।

 

বাজেটে ঘোষণা

ফসলের ন্যূনতম দর হিসেবে দেওয়া হবে চাষের খরচের দেড় গুণ টাকা

খরচ হিসেব

চাষের খরচ হিসেব করা হয় তিন ভাবে—

•শুধু উপকরণের খরচ ধরে

•উপকরণের খরচের সঙ্গে পারিবারিক মজুরি যোগ করে

•চাষের যাবতীয় খরচ ধরে। যার মধ্যে পড়ে জমি লিজ কিংবা ধার নেওয়ার খরচও

সুপারিশ ও প্রশ্ন

•এম এস স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশ ছিল, ফসলের ন্যূনতম দাম হওয়া উচিত সার্বিক খরচের তিন গুণ

•বাজেটে ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল, সরকার সে কথাই বলছে কি?

শেষে খোলসা

•জেটলি জানালেন, দর হিসেবের কথা ভাবা হচ্ছে দ্বিতীয় পদ্ধতিতে খরচ মেপে। উপকরণের খরচের সঙ্গে পারিবারিক মজুরি যোগ করে। অর্থাৎ, জমি লিজ কিংবা ধারের সুদ গোনার মতো খরচ তার মধ্যে নেই

বিরোধে কটাক্ষ

•বিরোধীদের প্রশ্ন, এ আর তবে নতুন কী? এই দর তো আগেই ছিল। তাঁদের কটাক্ষ, এটি মোদী সরকারের নতুন ‘জুমলা’

হান্নানের যুক্তি, ‘‘লিজ নিতে একরে ৩০-৪০ হাজার টাকা লাগে। তার উপর ঋণে সুদ রয়েছে। তা না ধরলে চাষের খরচ কী করে উঠবে?’’

বাজেটে আর একটি ঘোষণা ছিল, ১০ কোটি পরিবারের জন্য ৫ লক্ষ টাকা করে স্বাস্থ্যবিমা। তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েনের প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গের মতো অনেক রাজ্যের সফল স্বাস্থ্যবিমা রয়েছে। তা হলে কেন্দ্র কেন নিজের প্রকল্প তাদের উপর চাপাচ্ছে? রাজ্যকে কেন তার ৪০% অর্থ দিতে বলছে? জেটলি সরাসরি এর উত্তর দেননি।

মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যনের কথা মাথায় রেখে গতকাল প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমের কটাক্ষ ছিল, মোদী সরকার ভাল চিকিৎসক পেয়েছেন। কিন্তু রোগী এমনই খারাপ যে, দাওয়াই মানছেন না। আজ জেটলি পাল্টা বলেন, ‘‘আপনাদের সময়ে চিকিৎসকও খারাপ ছিলেন।’’ ইউপিএ জমানার শেষ তিন বছর ও মোদী সরকারের তিন বছরের পরিসংখ্যান দেখিয়ে তাঁর দাবি, এই সরকার অর্থনীতির হাল ফিরিয়েছে।