তামাম দুনিয়া যে পথে হাঁটছে, তাতে পা মেলানোয় পিছিয়ে নেই রাজ্যও। বরং প্রশাসনের প্রায় প্রতি ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির হাত ধরছে তারা। রাজস্ব বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে মূলত এরই দৌলতে। বৃহস্পতিবার ইনফোকমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ ভাবেই ‘ডিজিটাল পরিবর্তনের’ পক্ষে সওয়াল করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তুলে ধরলেন রাজ্যের সাফল্যের কথা। সওয়াল করলেন, কেন তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের গন্তব্য হয়ে ওঠা উচিত পশ্চিমবঙ্গ।

এবিপি প্রাইভেট লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত তথ্যপ্রযুক্তি জগতের এই রাজসূয় যজ্ঞে এ বার মূল বিষয় ‘ডিজিটাল ট্রান্সফর্মেশন’ বা ডিজিটাল পরিবর্তন। এই ‘পরিবর্তন’ যে রাজ্যেরও উন্নয়নের হাতিয়ার, তা স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ই-ট্যাক্সেশন, ই-আবগারি, ই-গভর্ন্যান্স সমেত নানা ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্পে আমাদের রাজ্য প্রথম সারিতে। রাজস্বও দ্বিগুণ হয়েছে।’’

ডিজিটাল প্রযুক্তি যে সারা বিশ্বের শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মী নিয়োগের নক্‌শা বদলে দিচ্ছে, সে কথা এ দিন বারবার উঠেছে ইনফোকমের মঞ্চে। প্রথম আলোচনা সভাতেই এরিকসন ইন্ডিয়ার প্রধান অমিতাভ রায় বলেন, ‘‘২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বিশ্বে প্রথম পাঁচের চারটি স্থানই দখল করত চিরাচরিত প্রযুক্তিনির্ভর সংস্থা। ২০১৬-তে তা বদলে গেল। প্রথম পাঁচ স্থানই এখন ডিজিটাল প্রযুক্তির সংস্থার দখলে।’’ এই তালিকায় আছে অ্যাপল, মাইক্রোসফট, গুগ্‌লের মতো সংস্থা। সিস্‌কো কর্তা লক্ষ্মী নারায়ণ রাও জানান, প্রতি চারটি সংস্থার মধ্যে একটি সংস্থা এখন এই প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ডিজিটাল প্রযুক্তি এখন আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আমজনতার দৈনন্দিন জীবনেও। অ্যাক্সেঞ্চার টেকনোলজির কর্তা ভাস্কর ঘোষের দাবি, রেস্তোঁরায় খাওয়া থেকে নেটে কেনাকাটা— সবেই মানসিকতা বদলে যাচ্ছে নতুন প্রযুক্তির দৌলতে। বিশ্বের প্রথম সারির মার্কেটিং অধ্যাপক নির্মাল্য কুমারও বলেন, জীবনধারাই বদলে যাচ্ছে এই যাদু প্রযুক্তির হাত ধরে।