নিত্য প্রয়োজনীয় চাল, চিনি, কেরোসিনে ভর্তুকি ছাঁটাই হচ্ছে। অথচ ব্যাঙ্কের অনুৎপাদক সম্পদ সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে মোদী সরকার কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে কার্যত ভর্তুকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুললেন পি চিদম্বরম।

রাজ্যসভায় প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর যুক্তি, দেউলিয়া বিধি এনে ঋণখেলাপি সংস্থাগুলিকে নিলামে তোলা হচ্ছে। কিন্তু তার পরেও দেখা যাচ্ছে, ব্যাঙ্কের ৭৫% পর্যন্ত টাকাই মার যাচ্ছে। যার অর্থ, সংস্থাগুলির ৭৫% ঋণ মাফ করে ঘুরপথে ভর্তুকি দিচ্ছে কেন্দ্র।

এই প্রসঙ্গেই ব্যাঙ্কিং সুরক্ষা বা এফআরডিআই বিল নিয়ে অভিযোগ আনেন সিপিএম সাংসদ তপন সেন। তাঁর প্রশ্ন, ব্যাঙ্কে লাল বাতি জ্বলতে পারে এই আশঙ্কা থেকেই কি বিলটি আনতে চাইছে কেন্দ্র? সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের টাকা তাঁদের অনুমতি ছাড়াই আটকে রাখা যাবে। তার পরে তাঁদের স্বার্থ কি সুরক্ষিত থাকবে? জেটলি জবাবে বলেন, ‘‘এটা সমাধানের অনেক বিকল্পের একটি। হয়তো এই রাস্তায় হাঁটার দরকারই পড়বে না।’’

দেউলিয়া বিধির সুযোগ নিয়ে যাতে স্বেচ্ছায় ঋণ খেলাপি সংস্থাগুলি ঘুরপথে সস্তায় নিজের সংস্থা কিনে নিতে না পারে, তার জন্য সংশোধন এনেছে কেন্দ্র। আজ রাজ্যসভায় সেই বিল পাশও হলেও চিদম্বরমের অভিযোগ, এতে দেশের অধিকাংশ সংস্থাই নিলামে অংশ নিতে পারবে না। ফলে মালিকানা চলে যেতে পারে বিদেশি হাতে। অথবা দেউলিয়া সম্পত্তি ভেঙে বিক্রি হলে সংস্থা বন্ধ হয়ে যাবে। তৃণমূলের সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, ফ্ল্যাট কিনতে বহু মধ্যবিত্ত আবাসন সংস্থাকে টাকা দিয়েছেন। তাঁদেরও ঋণদাতা তকমা দেওয়া হোক, যাতে সংস্থাটি নিলামে উঠলে, মধ্যবিত্তরাও টাকা ফেরত পান।