এ বার ২০১৬ সালের ১ এপ্রিলের আগে নেওয়া গৃহ, গাড়ি ঋণেও কমতে পারে মাসিক কিস্তি। এই আশা তৈরি হয়েছে ঋণে সুদের দু’ভাবে হিসেব করা হারের মধ্যে সমন্বয় আনা নিয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (আরবিআই) সাম্প্রতিক প্রস্তাবে। তবে ব্যাঙ্কিং শিল্পের মতে, কিস্তি কতটা কমবে বা আদৌ কমবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সমন্বয়ের ফর্মুলা ঠিক হলে একমাত্র তখনই তা বোঝা যাবে।

বুধবার শীর্ষ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, ঋণের ক্ষেত্রে বেস রেট এবং এমসিএলআরের নিয়মের মধ্যে সমন্বয় আনা হবে। তা কার্যকর হবে আগামী ১ এপ্রিল থেকে। আর তার পর থেকেই দানা বাঁধছে আশা।

কারণ, বেস রেটের জমানায় ওই হারের নীচে ঋণ দিতে পারত না ব্যাঙ্কগুলি। তা ঠিক করার নির্দিষ্ট সময়সূচি ছিল না। ব্যবসার অবস্থা বিচার করে ব্যাঙ্কগুলি সেই হার বদলাত। কিন্তু এমসিএলআরে তহবিল সংগ্রহের খরচের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময় অন্তর সুদ খতিয়ে দেখতে হয় তাদের। সে ক্ষেত্রে সুদ কমে বা বাড়ে দ্রুত। শীর্ষ ব্যাঙ্কের মতে, এখনও বহু ঋণ রয়েছে বেস রেটের আওতায়। ফলে এখনকার কম সুদের সুবিধা সকলে পাচ্ছেন না। কিছু ক্ষেত্রে আবেদনের ভিত্তিতে ঋণ এমসিএলআরে বদলানো যায়। তবে সে জন্য বেশির ভাগ সময়ে এককালীন টাকা লাগে। তাই এই দুই হারে সমন্বয় আনতে চায় তারা।

স্টেট ব্যাঙ্কের বেঙ্গল সার্কেলের সিজিএম পার্থপ্রতিম সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘দুই হারে সমন্বয় এলে কিছুটা হলেও কিস্তি কমবে।’’ উল্লেখ্য, স্টেট ব্যাঙ্কে এখন বেস রেট ৮.৯৫%। যেখানে এমসিএলআর ৭.৯৫%।

অবশ্য অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এমসিএলআরে কিস্তি যেমন কমতে পারে, তেমনই তা ভবিষ্যতে বাড়তেও পারে। ইউকো ব্যাঙ্কের প্রাক্তন এগ্‌জিকিউটিভ ডিরেক্টর বি কে দত্ত বলেন, মূল্যবৃদ্ধি মাথাচাড়া দিলে আমানতে সুদও বাড়বে। ফলে বাড়বে তহবিল সংগ্রহের খরচ। সে ক্ষেত্রে কিস্তি বাড়ার সম্ভাবনা।

আবার সমন্বয়ের পরে যদি বেস রেট এবং এমসিএলআর সমান হয়, তা হলেও সুদ না কমতে পারে। সে ক্ষেত্রেও কিস্তি না কমার আশঙ্কা সত্যি হতে পারে বলে ধারণা ব্যাঙ্কিং শিল্পের অনেকের।