যা প্রত্যাশা ছিল, বাস্তবে ঘটল সেটাই। দু’দিনব্যাপী ঋণনীতি পর্যালোচনার শেষে বুধবার মূল্যবৃদ্ধিকে মাত্রাছাড়া হতে না-দেওয়ার উপরেই সবচেয়ে বেশি জোর দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। আর তা করতে গিয়েই এ দফায় ফের একই জায়গায় ধরে রাখল সুদের হার। তবে ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহ দিতে দোকানে কার্ডে কেনাকাটার রাস্তা আরও সুবিধাজনক করেছে তারা।

এ দিন রেপো রেট (যে হারে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের থেকে ধার নেয় বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক) ৬ শতাংশেই ধরে রেখেছে শীর্ষ ব্যাঙ্ক। গভর্নর উর্জিত পটেলের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের ঋণনীতি কমিটি এ নিয়ে টানা দু’বারের পর্যালোচনায় সুদ একই রাখার সিদ্ধান্ত নিল। রিভার্স রেপো রেট (আরবিআই যে হারে ধার নেয় বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কের থেকে) বেঁধে রাখা হয়েছে ৫.৭৫ শতাংশে। ফলে এখনই গাড়ি-বাড়ি বা শিল্প ঋণে সুদ কমার সুযোগ থাকছে না। এর জেরে হতাশ শিল্পমহল। কারণ তাদের দাবি, বৃদ্ধির চাকায় গতি আনতে সুদ কমানো জরুরি। তবে ব্যাঙ্কিং শিল্পমহল বলছে, সম্প্রতি যে ভাবে মূল্যবৃদ্ধি ফের মাথা তুলছে এবং রাজকোষ ঘাটতি লাগামছাড়া হওয়ার আশঙ্কা দানা বেঁধেছে, তাতে সুদ অপরিবর্তিত রাখা এ বার প্রত্যাশিতই ছিল। তাই অনেকেরই অভিমত, শীর্ষ ব্যাঙ্কের এই নীতি বাস্তবসম্মত।

ঘাটতি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করলেও, শীর্ষ ব্যাঙ্ক নতুন করে চলতি অর্থবর্ষের বৃদ্ধির পূর্বাভাসে রদবদল করেনি। এ বারও তাকে সেই ৬.৭ শতাংশেই রেখেছে তারা। তবে সুদ কেন কমলো না, তা স্পষ্ট শীর্ষ ব্যাঙ্কের মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাসে। অর্থবর্ষের শেষ
ছ’মাসের জন্য তা সামান্য বেড়ে হয়েছে ৪.৩-৪.৭%। আগের বার ছিল ৪.২-৪.৬%। অবশ্য দীর্ঘ মেয়াদে মূল্যবৃদ্ধি ৪ শতাংশের মধ্যে বেঁধে রাখতেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তারা।

সুদ এক থাকার খবরে এ দিন সেনসেক্স পড়ে যায় ২০০ পয়েন্ট। বিশেষজ্ঞদের দাবি, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক আগামী কয়েক মাসে মূল্যবৃদ্ধি কিছুটা বাড়ার ইঙ্গিত দেওয়াতেই অদূর ভবিষ্যতে সুদ কমার আশা দেখছেন না লগ্নিকারীরা। তার উপর বাড়ানো হয়নি বৃদ্ধির পূর্বাভাসও। ফলে কিছুটা আতঙ্কে শেয়ার বেচেছেন অনেকে। যদিও অর্থনীতির অবস্থা তেমন সঙ্গিন নয় জানিয়ে, আগামী দিনে সুদ কমানোর দরজা খুলে রাখার ইঙ্গিতও দিয়েছে শীর্ষ ব্যাঙ্ক।

ডিজিটাল লেনদেন আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে এ দিন ব্যাঙ্কগুলিকে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেটস (পয়েন্ট অব সেল যন্ত্রে কার্ড ঘষে কেনাকাটার জন্য দোকানগুলিকে যে টাকা ব্যাঙ্কের কাছে জমা দিতে হয়)-এর হার ছোট ও বড় ব্যবসায়ীদের জন্য আলাদা করার দাওয়াইও দিয়েছে শীর্ষ
ব্যাঙ্ক। বছরে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যবসায় তার ঊর্ধ্বসীমা লেনদেন পিছু ২০০ টাকা। ব্যবসা তার বেশি হলে ওই অঙ্ক ১০০০ টাকা।