কলকাতা তা হলে আছে কলকাতাতেই! গড়িয়া আর কেষ্টপুরের দুটো ঘটনার কথা শুনে বুঝতে পারছি শহরটা এক চুলও বদলায়নি। এত যে মহিলাদের সম্মান, নিরাপত্তার বড়াই করা হয়, আমাদের অনেকের অভিজ্ঞতাই তার সঙ্গে মেলে না।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে পর পর শ্যুটিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা তিন যুবককে সরে যাওয়ার জন্য হর্ন দিয়েছিল আমার গাড়ির চালক গৌর। কিন্তু তারা সরেনি। তাই পাশ দিয়ে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে গৌর। মাত্র কয়েক মিটারই যেতে পেরেছিলাম। সিরিটি শ্মশানের কাছে আমার গাড়িকে ঘিরে, গাড়ির চাবি কেড়ে নিয়ে কী ভাবে আমার শ্লীলতাহানির চেষ্টা হয়েছিল, তা ভাবলে এখনও গায়ে কাঁটা দেয়। নেহাৎ তারাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ বাঁচিয়েছিলেন। না হলে আমাকে যে কী অবস্থার সম্মুখীন হতে হত, তা জানি না।

ওই যুবকেরা চাবি ফেরত দেওয়ার শর্ত হিসেবে বলেছিল, গৌরকে আমার গালে ১০টা থাপ্পড় মারতে হবে এবং আমাকেও গৌরকে ১০টা থাপ্পড় মারতে হবে! রাজি না হওয়ায় আমাকে ১০ বার কান ধরে ওঠবোস করতে বলা হয়। ওই সময়ে তারাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ এসে পড়ায় আমি দৌড়ে গিয়ে ঘটনা খুলে বলি এবং বেঁচে যাই। পুলিশ আমার অভিযোগের ভিত্তিতে তিন জনকে গ্রেফতার করে। পরে টিআই প্যারেডে এক জনকে চিহ্নিতও করি। বাকি দু’জনের ক্ষেত্রে বাইরে শ্যুটিং থাকায় যেতে পারিনি।

বুধবার রাতে অটোতে যে মহিলার শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে আমি তাতে আশ্চর্য নই। কারণ এ ধরনের ঘটনা অহরহ এ শহরে ঘটে। যখন মডেলিং করতাম সেই সময়ের একটা ঘটনা এখনও মনে আছে। পার্ক সার্কাস থেকে গড়িয়াহাট আসব বলে অটো ধরেছিলাম। তখন রাত ৮টা-সাড়ে ৮টা হবে। অটো চালকের পাশে বসেছিলাম। হঠাৎ খেয়াল হল, বার বার অটো স্টার্ট করার অছিলায় আমার শরীরে হাত দেওয়ার চেষ্টা করছেন আমার বাবার বয়সী ওই চালক। বেশ কয়েক বার এ রকম হতে আমি মাঝ রাস্তায় নেমে পড়ি।

এ ক্ষেত্রে মহিলার বয়স ৫০-এর কাছাকাছি বলে অনেকে অবাক হচ্ছেন। অবাক হওয়ার কিন্তু কিছু নেই। যারা এটা করে তারা বয়স দেখে না।