ফি দিনের মতোই কেউ বেরিয়েছিলেন অফিসে বা স্কুলে। অধিকাংশেই সময় মেপে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। সমস্যায় পড়তে হল তাঁদের সকলকেই।

উপলক্ষ প্রতিবাদ।

বুধবার রাতে এক অটোচালকের গ্রেফতারের বিরুদ্ধে সবর হন এলাকার অন্য অটোচালকেরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয় গড়িয়া-টালিগঞ্জ রুটের অটো চলাচল। অফিসের ব্যস্ত সময়ে টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনে যাওয়ার অটো না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নিত্যযাত্রীরা। 

অটো বন্ধ হওয়ায় বাধ্য হয়েই এ দিন কেউ বেছে নেন বাস, আবার কেউ ভিড় বাস এড়াতে খোঁজেন রিকশা। পরিস্থিতি বুঝে বেড়ে যায় রিকশা ভাড়াও। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি খুবই জটিল হয়ে ওঠে।

এ দিন অটো বন্ধ থাকায় স্কুলবাস ধরতে পারেনি দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। সকালে মায়ের সঙ্গে বাঁশদ্রোণীর ওই ছাত্রী বাড়ি থেকেই বেরিয়ে জানতে পারে, অটো চলছে না। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরে রিকশা পেয়ে বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছতে দেরি হয়ে যায়। তত ক্ষণে স্কুলবাস চলে গিয়েছে।

সদ্য ওড়িশা থেকে কলকাতায় এসেছেন প্রমীলাদেবী। নতুন শহরে  নতুন ভাষার সঙ্গে একেই মানিয়ে নিতে সময় লাগছে। নবম শ্রেণির পড়ুয়া মেয়েকে গড়িয়ার কাছে একটি স্কুলে ভর্তি করেছেন। নেতাজিনগর থেকে অটো ধরে গড়িয়া যান তাঁরা। এ দিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে জানতে পারেন অটো চলছে না। হিন্দি বা বাংলা, কোনও ভাষাতেই সাবলীল নন। তাই অনেককে জিজ্ঞাসা করেও মেয়ের স্কুলে পৌঁছনোর বিকল্প উপায় বুঝে উঠতে পারেননি। ফের বাড়ি ফিরে পড়শিদের কাছে বুঝে প্রমীলাদেবী বাসে চেপে গড়িয়া পৌঁছন।

যদিও যাত্রী ভোগান্তিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ ওই রুটের অটোচালকেরা। এ দিন অধিকাংশ চালক জানান, প্রায় দিন যাত্রীরা তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলেন। সব সময় তাঁদের সমস্যায় পড়তে হয়। তাই তাঁরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। বুধবার রাতের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া অটোচালক ইমান আলি খান ওরফে মামা প্রায় চল্লিশ বছর ধরে ওই রুটে অটো চালাচ্ছেন বলে জানান চালকেরা। ওই রুটের অটো ইউনিয়নের এক নেতার কথায়, ‘‘প্রায় সাড়ে চারশো চালক অপরাধীর পাশে দাঁড়াতেন না। মামাকে আমরা সম্মান করি। তাই ওঁর পাশে আছি। অনির্দিষ্ট কাল ধরে প্রতিবাদ চলবে।’’

এ দিন সকাল থেকেই রাজ্যের শাসক দলের স্থানীয় নেতারা অটোচালকদের যাতায়াত স্বাভাবিক করার অনুরোধ জানান। নেতাজিনগর থানার পুলিশকর্তারাও গড়িয়া অটোস্ট্যান্ডে গিয়ে যাত্রীদের অসুবিধার কথা জানিয়ে অটোচালকদের যাতায়াত স্বাভাবিক করার জন্য বলেন। কিন্তু তাঁরা সিদ্ধান্তে অটল। তাঁদের দাবি, অটোচালককে কেন গ্রেফতার করা হল, সে জবাব পুলিশকে দিতে হবে।

যদিও দক্ষিণ কলকাতার অটো ড্রাইভার ও অপারেটর্স ইউনিয়নের সম্পাদক গোপাল সুতার জানান, অটোচালকদের বলা হয়েছে, কে অপরাধী, সেই সিদ্ধান্ত আইনের হাতেই থাকুক। যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের দিকটাই যেন তাঁরা ভাবেন। তাঁদের অটো চলাচল স্বাভাবিক করার অনুরোধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, অটো চালানোর সময়ে কোনও সমস্যা হলে যেন জানানো হয়। তা হলে আইনি পথে অভিযোগ করা হবে।