চিকিৎসকেরা বলেছিলেন, বাইপাস সার্জারি করতে হবে। তার জন্য প্যাকেজের পুরো টাকা জমা দিয়েছিল রোগীর পরিবার। নির্ধারিত দিনে অস্ত্রোপচারের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল রোগীকে। তার জন্য শরীরের প্রয়োজনীয় অংশে কাটাও হয়ে যায়। কিন্তু দু’ঘণ্টা পরে বাইরে বেরিয়ে এসে চিকিৎসকেরা জানালেন, বাইপাস সার্জারি সম্ভব নয়। পুলিশ জানায়, প্যাকেজের পুরো টাকা নিয়েও অস্ত্রোপচার না করে রোগীকে ডিসচার্জ করে দেওয়ার অভিযোগে বাইপাসের ওই বেসরকারি হাসপাতালের দুই চিকিৎসক-সহ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পরিবার।

তদন্তকারীরা জানান, দিনকর অধিকারী নামে ওই রোগীর শ্বশুর রাধারমণ লালার অভিযোগ— মূল রোগের চিকিৎসা না করে বেশি টাকা আদায় করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং দুই চিকিৎসক। লালবাজার জানিয়েছে, বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, প্রাণ সংশয় হতে পারে জেনেও আঘাত করা-সহ একাধিক ধারায় তদন্ত শুরু করেছে পূর্ব যাদবপুর থানা। হাসপাতালের অবশ্য দাবি, টাকা আদায়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানায়, নদিয়ার বাসিন্দা দিনকর গত ২৭ ডিসেম্বর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন। বাইপাসের ওই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেন, বাইপাস অস্ত্রোপচার করতে হবে। অভিযোগকারীদের দাবি, ২ জানুয়ারি ওই অস্ত্রোপচারের জন্য দেড় লক্ষ টাকা প্যাকেজের কথা বলে হাসপাতাল। তার আগেই তাঁরা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রায় সওয়া লক্ষ টাকা জমা দেন।

পুলিশের কাছে রাধারমণবাবুর দাবি, নির্দিষ্ট দিনে দু’ঘণ্টা অস্ত্রোপচার চলার পরে এক চিকিৎসক ওটি থেকে বেরিয়ে বলেন, ‘‘রোগীর বাইপাস করা যাবে না। অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করতে হবে।’’ এবং হাসপাতালও জানিয়ে দেয়, ওই টাকাতেই দিনকরের অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি হবে। তা শুনে তাঁরা সেখানেই রোগীকে ভর্তি রাখেন। কিন্তু ক’দিন পরে কর্তৃপক্ষ ফের ৫০,০০০ টাকা জমা দিয়ে রোগীকে বাড়ি নিয়ে যেতে বলেন। অভিযোগ, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির কথা বললে হাসপাতাল তার জন্য আড়াই লক্ষ টাকা চায়।

পরিবারের অভিযোগ, তাঁরা পঞ্চাশ হাজার টাকা দিতে না চাইলে রোগীকে ছাড়া হবে না বলে জানায় হাসপাতাল। পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার বাকি টাকা জমা করে রোগীকে নিয়ে যান তাঁরা। তার পরেই পূর্ব যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি জোগাড় করে বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে খতিয়ে দেখা হবে। কথা বলা হবে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের সঙ্গেও।

বাইপাসের হাসপাতালটির সুপার অর্ণব গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘অস্ত্রোপচারের প্রক্রিয়া শুরুর পরে চিকিৎসকেরা বুঝতে পারেন, রোগীর যা পরিস্থিতি তাতে অপারেশন টেবিলেই মৃত্যু হতে পারে। তাই অস্ত্রোপচার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। প্রক্রিয়াগত কিছু খরচ বাদ দিয়ে বাকি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তার পরে এই অভিযোগ দুর্ভাগ্যজনক।’’