স্নাতক-স্নাতকোত্তরে আসন খালি, পরের পর শিক্ষক-শিক্ষিকার চলে যাওয়া, পঠনপাঠনের পরিবেশ ও হেরিটেজ নষ্ট ইত্যাদি বিষয়ে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সংসদের। ঐতিহ্যবাহী প্রেসিডেন্সির সার্বিক সমস্যা সমাধানের জন্য এ বার মেন্টর গ্রুপের চেয়ারম্যান সুগত বসুর মুখোমুখি বসে আর্জি জানাল তারা।

রবিবার ওই বৈঠকের পরে প্রাক্তনী সংসদের সাধারণ সম্পাদক বিভাস চৌধুরী জানান, প্রেসিডেন্সির নানা বিষয়ে তাঁদের ক্ষোভের কথা জানানো হয়েছে মেন্টর-প্রধানকে। রক্ষণাবেক্ষণের নামে ন’টি ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় যে হেরিটেজ-বিধি ভেঙেছে, এ দিনের বৈঠকে সেই বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তা ফেরানোর চেষ্টা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মেন্টর গ্রুপের চেয়ারম্যান।

প্রেসিডেন্সি সূত্রের খবর, কর্তৃপক্ষ যে এমিরেটস অধ্যাপকদের সঙ্গে আলোচনা করেন না, সেই বিষয়ে ওই বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষক সমাজতত্ত্বের শিক্ষক প্রশান্ত রায়। যদিও পরে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। বিভাসবাবুর কথায়, ‘‘যাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাল চান, তাঁদের সকলের সঙ্গে কথা বলতে হবে। মুক্ত পরিবেশ রাখতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ে। সুগতবাবুকে এটা আমরা জানিয়ে দিয়েছি।’’

প্রেসি়েডন্সি ছেড়ে চলে গিয়েছেন অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকাই। কম বেতনেও কী ভাবে শিক্ষকদের রেখে দেওয়া যায়, তা নিয়ে এ দিন আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রাক্তনীরা। কিছু শিক্ষক কেন চলে গেলেন, তার আসল কারণ অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়েছে। দাবিপত্রে প্রাক্তনীদের অভিযোগ, ইতিহাসের এক শিক্ষককে না-জানিয়েই তাঁর ঘর নিয়ে নেওয়া হয়। তাঁকে পড়ানো বন্ধ করতে কার্যত বাধ্য করানো হয়েছিল। নানা কারণে এক ডিনও পদ ছাড়তে বাধ্য হন। একই ভাবে প্রমোদদার ক্যান্টিন নিয়ে সমস্যার কথাও তাতে উল্লেখ রয়েছে।

বিভাসবাবুর বক্তব্য, প্রবেশিকা পরীক্ষা পাশ করেও অনেক পড়ুয়াই প্রেসিডেন্সিকে প্রথম পছন্দ করছেন না। তাঁরা মনে করছেন, মান নেমে গিয়েছে। শুধু বাইরে থেকে শিক্ষক নিয়ে এসে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে না। ভিতর থেকেই করতে হবে বলে মন্তব্য করেন ওই প্রাক্তনী।

সুগতবাবু বলেন, ‘‘সব কথাই শুনেছি। ভাল আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে যে-রিপোর্ট দেওয়া হবে, তাতে এই সব বিষয়েরই প্রতিফলন থাকবে।’’ উপাচার্য অনুরাধা লোহিয়া বলেন, ‘‘আমার সঙ্গে এই ব্যাপারে কোনও কথাই হয়নি। তাই আমি এই বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’’