আয়োজন ছিল সবেরই। কিন্তু আসল দিনে দেখা গেল, যতটা ভাবা গিয়েছিল, রবিবার বর্ষবরণে মেট্রোর ভিড় সেই সংখ্যা ছুঁল না। বরং বর্ষবরণের আগের দিন, শনিবার যাত্রী-সংখ্যা ছাপিয়ে গিয়েছিল প্রত্যাশাকে।

তবে এই প্রথম কলকাতাবাসী সাবালকের মতো আচরণ দেখলেন মেট্রোর। শহরে ভিড় হবে আন্দাজ করে মাঝরাতেরও বেশি সময় অতিরিক্ত পরিষেবা চালানোর ব্যবস্থা করেছিলেন কর্তৃপক্ষ। তাতেই কেল্লা ফতে। সময় মেনে পুরো সময়টাই মেট্রো চলেছে টানা। মাঝপথে থমকে যায়নি। পুরনো পরিকাঠামো কাজে লাগিয়ে মেট্রো যে ভাবে পরিষেবা চালু রাখতে পেরেছে, তার তারিফই করেছেন যাত্রীরা।

পাশাপাশি সরকারি পরিবহণও সচল ছিল সারা রাত। শুক্রবারই পরিবহণমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, রবিবার বাস চলবে সারা রাত। সেই মতো এ দিন শহরের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াতের জন্য সরকারি বাস চলেছে প্রায় এক হাজারেরও বেশি। অন্য দিন রাস্তায় নামে ৭০০-৮০০ সরকারি বাস। এর সঙ্গে শহরের রাস্তায় ছিল ট্যাক্সি, অটো এবং নানা সংস্থার ক্যাবও।

দু’দিন আগেই মেট্রো জানিয়েছিল, বর্ষবরণের রাতে ট্রেন চলবে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। শুধু তাই নয়, অন্য রবিবার ১১০টি ট্রেন চালানো হয়। মেট্রো সূত্রে বলা হয়েছিল, এ দিন বাড়তি ৯০টি ট্রেন চালানো হবে। তবে মেট্রো কর্তৃপক্ষই বলছেন, মোট ২০০টি ট্রেন চললেও রাত আটটা পর্যন্ত যাত্রী সংখ্যা ছিল সাড়ে তিন লক্ষের কাছাকাছি। পরিষেবা নির্বিঘ্ন থাকায় মধ্যরাত পর্যন্ত যাত্রীরা স্বচ্ছন্দে ঘুরে বেড়িয়েছেন উত্তর থেকে দক্ষিণ।

মেট্রোরই আর একটি সূত্র অবশ্য বলছে, শনিবার যাত্রী সংখ্যা সাত লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। যা দেখে যাত্রীদের একটি বড় অংশের বক্তব্য, উৎসবের কয়েক দিন আগে থেকে বাড়তি সময় পর্যন্ত পরিষেবা দিলে ওই দিন এমন দমবন্ধ ভিড় হত না।

তবে অতিরিক্ত পরিষেবা দেওয়ার পথে হাঁটেনি মেট্রোর দোসর পূর্ব রেল। অথচ উৎসবের সময়ে শহরতলি থেকে কয়েক লক্ষ মানুষ লোকাল ট্রেনেই শহরে আসেন। কিন্তু পূর্ব রেল হাওড়া ও শিয়ালদহে অতিরিক্ত ট্রেনের ব্যবস্থা না করায় শহরতলির যাত্রীরা মেট্রোর এই সুযোগ নিতে পারেননি। উল্টে এ দিন ছুটির দিন হওয়ায় পূর্ব রেল বহু ট্রেন বাতিল করেছিল। যাত্রীদের বক্তব্য, এমন উৎসবের দিনে শহরতলির যাত্রীদের কথা ভেবে শিয়ালদহ এবং হাওড়া থেকে কয়েকটি অতিরিক্ত ট্রেন চালানো উচিত রেলের।

এর পাশাপাশি স্টেশন এবং ট্রেনগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানোরও ব্যবস্থা করেছিল মেট্রো। মেট্রোর এক নিরাপত্তা আধিকারিক জানান, যে স্টেশনগুলিতে এই সময়ে ভিড় হয়, তেমনই কয়েকটি স্টেশন বেছে সেখানে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষত সুরক্ষা জোরদার করা হয়েছে পার্ক স্ট্রিট, দমদম, কালীঘাট এবং কবি সুভাষ স্টেশনে। বাড়ানো হয়েছে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যাও। পাশাপাশি তৈরি রাখা হয়েছে কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ ইউনিটকেও।

মেট্রো সূত্রের খবর, এমনিতে প্রতি স্টেশনে এক জন করে অফিসার ও ১০ জন করে কর্মী থাকেন। এই বিশেষ ব্যবস্থায় থাকছেন তিন জন অফিসার এবং ১৮ জন কর্মী। এসপ্ল্যানেড ও পার্ক স্ট্রিটে একটি করে ৭ জনের কম্যান্ডো বাহিনীও মোতায়েন ছিল। আরপিএফ-এর পাশাপাশি যাত্রী-নিরাপত্তা দেখার জন্য তৈরি ছিল কলকাতা পুলিশও। তবে মেট্রো সূত্রের খবর, এ দিন কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।