ইন্ডিয়ান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের ন’তলায় সবে শেষ হয়েছে একটি মিটিং। এ বার দুপুরের খাওয়া-দাওয়ার পালা। জনা তিরিশেক কর্তা তার অপেক্ষায়। তখনই বেজে উঠল এক কর্তার মোবাইল ফোন। মোবাইলের ওপারে থাকা অফিসের এক নিরাপত্তারক্ষীর আর্তনাদ, ‘‘আপনারা তাড়াতাড়ি নেমে আসুন। নীচে আগুন লেগেছে।’’

নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের উল্টো দিকে, ১ নম্বর শহিদ ক্ষুদিরাম বসু রোডে (সাবেক অকল্যান্ড রোড) ইন্ডিয়ান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের সদর দফতর। শনিবার তখন দুপুর ২টো। মিটিং শেষ হওয়ার পরে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলেন কর্তারা। ওই একটি ফোন যেন সব কিছুর তাল কেটে দিল।

প্রাণ বাঁচাতে হুড়মুড়িয়ে সিঁড়়ি দিয়ে নামতে শুরু করেন কর্তারা। জানা যায়, আগুন লেগেছে এক তলার সার্ভার রুমে। ওই ঘরটি সিঁড়ির পাশে নয়। ফলে, সিঁড়ি ধরে এক তলায় পৌঁছতে কর্তাদের অসুবিধে হয়নি। অক্ষত অবস্থাতেই তাঁরা সবাই নীচে নেমে যান।

ততক্ষণে খবর গিয়েছে দমকলে। প্রথমে পৌঁছয় দমকলের চারটি ইঞ্জিন। আকাশবাণী থেকে স্ট্র্যান্ড রোডে যাওয়ার রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ।

কিন্তু যেখানে আগুন লেগেছিল, সেই সার্ভার রুম কাচ দিয়ে ঢাকা থাকায় জল দিতে অসুবিধা হচ্ছিল। সেই জন্য দমকলকর্মীরা সার্ভার রুমের কাচ ভেঙে জলের পাইপ ঢুকিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। ইতিমধ্যে পৌঁছয় দমকলের আরও চারটি ইঞ্জিন। কিছুক্ষণ পরে দমকলকর্মীরা সার্ভার রুমে ঢুকে পড়েন। প্রায় আধ ঘণ্টার চেষ্টায় তাঁরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। দমকলের এক কর্তা বলেন, ‘‘প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে।’’

সেই সময়ে রাস্তার উল্টো দিকে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা শিক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছিলেন রাজ্যের বহু কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে তাঁদের মধ্যেও। তবে নেতাজি ইন্ডোরে মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছনোর প্রায় এক ঘণ্টা আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে দমকল।

বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড ভবনের পাশ দিয়ে হেঁটে নেতাজি ইন্ডোরে ঢুকছিলেন। আগুন দেখে আতঙ্কে তাঁরা দাড়িয়ে পড়েন। ওই চত্বরেই রয়েছে হাইকোর্ট ও বিধানসভা ভবন। তার উপর এ দিন ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠান থাকার কারণে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন ছিল। হাইকোর্টে কর্তব্যরত এক পুলিশকর্মী দেখেন, অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের একতলা থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। ওই পুলিশকর্মী দমকলে খবর দেন। তা ছাড়া, অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের নিরাপত্তারক্ষীরাও দমকলে ফোন করেছিলেন।