এ বার আলো জ্বলুক আঁতুড় ঘরে

উনিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে কলকাতার বুক চিরে তৈরি হল নতুন সড়ক। পটলডাঙা অঞ্চলে এই সড়কের দু’পাশটা স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বইবিপণি নিয়ে গমগমে হয়ে উঠতে অবশ্য লেগে গিয়েছিল আরও বেশ কয়েক দশক। প্রথমে হিন্দু (১৮১৭-য় গরানহাটায় সূচনা) আর সংস্কৃত কলেজ, একই বাড়িতে ভাগাভাগি করে। ১৮৫৪-’৫৫য় আবার ভাগ— হিন্দু স্কুল আর প্রেসিডেন্সি কলেজ। তারপর একে একে বিশ্ববিদ্যালয়, হেয়ার স্কুল ও প্রেসিডেন্সির নতুন ভবন। এই মুহূর্তে সেই সড়ক, কলেজ স্ট্রিটের পশ্চিম প্রান্ত আলোয় ঝলমল করছে, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের দুশো বছর পালন করছে। আর পূর্ব দিক— বাংলার নবজাগরণের আলো যে দিকে ফুটেছিল? সে দিক এখনও অন্ধকার। আঁতুড় ঘরেই তো প্রথম আলো জ্বালানর দরকার ছিল। দুশো বছরের গৌরবের ভিত্তি যে শুধু হিন্দু কলেজের প্রথম চল্লিশ বছর তা-ই নয়, পরে হিন্দু স্কুলে ভিত তৈরি হয়েছিল এমন অনেকেই কলেজে উচ্চশিক্ষা নিয়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তবে পূর্বের ভবনেও আস্তে আস্তে কলি ফিরছে, শোনা যাচ্ছে আলোও জ্বলবে অচিরে।

এ দিকে হিন্দু স্কুল দ্বিশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন কমিটির উদ্যোগে ২০১৬-র জানুয়ারিতে যে অনুষ্ঠান শুরু হয়, তার শেষ পর্ব ২০ জানুয়ারি, নজরুল মঞ্চে। থাকছেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ও বিশিষ্ট জন। প্রকাশিত হবে একটি স্মারকগ্রন্থ, হিন্দু কলেজ থেকে হিন্দু স্কুল, যেখানে সংকলিত হয়েছে এই প্রতিষ্ঠান-পরম্পরার দুর্লভ ইতিহাস, সঙ্গে দেড়শোরও বেশি অমূল্য ছবি। পরে ছাত্রদের অনুষ্ঠান, সংগীতে পণ্ডিত বিশ্বমোহন ভট্ট ও প্রদ্যোত মুখোপাধ্যায়। ২১ জানুয়ারি পি সি চন্দ্র গার্ডেনে দেবজ্যোতি মিশ্রের ‘প্রথম আলো’। ১৭-১৮ জানুয়ারি স্কুলের অনুষ্ঠান ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটে, ২৩ জানুয়ারি গরানহাটা থেকে শোভাযাত্রার পরিকল্পনা। সঙ্গে বাঁ দিকে হিন্দু কলেজ ভবনের পুরনো ছবি, স্কুল কর্তৃপক্ষের সৌজন্যে। মাঝে প্রথম অসমীয়া ছাত্র আনন্দরাম ঢেকিয়াল ফুকন।   

কালজয়ী

 কেবল পরিচালক পরিচয়েই সীমাবদ্ধ ছিলেন না বিমল রায়। তিনি একাধারে লেখক, সিনেমাটোগ্রাফার ও প্রযোজক। নিউ থিয়েটার্সে পথচলা শুরু ক্যামেরা-সহযোগী হিসেবে। প্রথম কাহিনিচিত্র ‘উদয়ের পথে’। পঞ্চাশের দশকের শুরুতেই মুম্বই চলে যান এবং নিজের ফিল্ম কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে থেকেই মুক্তি পায় ‘দো বিঘা জমিন’ (১৯৫৩)— ভারতীয় সিনেমার অন্যতম ক্লাসিক। তাঁর দেবদাস, বন্দিনী, মধুমতী, পরিণীতা, বিরাজ বহু, সুজাতা ইত্যাদি ছবিও ইতিহাস। তাঁর মৃত্যুর পঞ্চাশ বছর পেরনো উপলক্ষে একটি সংগীতমুখর অনুষ্ঠানের আয়োজন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে। ১৩ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টায় ওয়েস্টার্ন কোয়াড্রাঙ্গলে ‘শুন মেরে মিতয়া’ অনুষ্ঠানে দেখা যাবে তাঁর কালজয়ী কিছু গানের অংশ, সঙ্গে আলোচনা, সঞ্চালনায় মীর। অন্য দিকে, প্রথম সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষ উপলক্ষে গোর্কি সদনে ১০ জানুয়ারি সন্ধে ৬টায় কোজিনৎসেেভর ‘নিউ ব্যাবিলন’, প্যারি কমিউন-এর প্রেক্ষিতে তৈরি এ ছবি এ দেশে এই প্রথম দেখানোর আয়োজন করেছে আইজেনস্টাইন সিনে ক্লাব।

সুবর্ণজয়ন্তী

 সরলা এবং বসন্তকুমার বিড়লার ইচ্ছে ছিল এমন একটি প্রতিষ্ঠান তৈরির, যেটি একাধারে সংগ্রহ এবং সংস্কৃতি চেতনা বিস্তারের কাজ করবে। সাদার্ন অ্যাভিনিউতে গড়ে ওঠে ১১ তলা বাড়ি, বিড়লা অ্যাকাডেমি অব আর্ট অ্যান্ড কালচার। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ ও মঞ্চ, প্রেক্ষাগার, প্রদর্শনী কক্ষ, গ্রন্থাগার এবং সংগ্রহালয়— এ নিয়েই প্রতিষ্ঠানটি ৫০ বছর পূর্ণ করছে আজ। আয়োজিত হয়েছে নানা অনুষ্ঠান। রয়েছে ‘গোল্ডেন বো’ শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনী যাতে আছেন ৬৬ জন বিশিষ্ট শিল্পী। সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে ১৫৩ জন সমকালীন তরুণের কাজ।  প্রদর্শনী ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, ৩-৮ টা। আজ সন্ধেয় উদ্বোধন করবেন কর্ণ সিংহ, থাকবেন জয়ন্ত সেনগুপ্ত, রাজশ্রী বিড়লা। ১৩ জানুয়ারি আলোচনা, ‘লোকেটিং বেঙ্গলি এসথেটিক্যাল ইথস ইন দ্য ডেভেলপমেন্ট অব ইন্ডিয়ান মডার্ন আর্ট প্র্যাকটিস’, থাকবেন আর শিবকুমার, নানক গঙ্গোপাধ্যায় এবং জনি এমএল। ১৪ জানুয়ারি এখানেই উস্তাদ রাশিদ খানের সংগীত পরিবেশন।

সাহিত্য উৎসব

 প্রতি বছরের মতো এ বছরও আকাদেমি-রবীন্দ্রসদন প্রাঙ্গণে ১১-১৫ জানুয়ারি সাহিত্য উৎসব ও লিটল ম্যাগাজিন মেলা (২-৮টা)। প্রায় চারশো লিটল ম্যাগাজিন তাদের প্রকাশনা নিয়ে এবং প্রায় তিনশো কবি, সাহিত্যিক ও সাহিত্য সমালোচক গল্প, কবিতাপাঠ, আলোচনায় অংশ নিতে উপস্থিত থাকবেন মেলা প্রাঙ্গণে। এ ছাড়া আসছেন কবি সীতাংশু যশচন্দ্র ও রাজেন্দ্রকিশোর পণ্ডা, শাহনাজ নবি প্রমুখ। প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। উদ্বোধন করবেন নবনীতা দেব সেন। প্রকাশ পাবে পুরনো পত্রপত্রিকা থেকে নিবন্ধের সংকলন সাহিত্যমেলা। আর থাকবে, আকাদেমি সভাঘরে প্রতি সন্ধ্যায় স্মারক বক্তৃতা, দিনের শেষে রবীন্দ্রনাথ কিংবা বাউল-ফকির থেকে এ কালের বাংলা গান। আয়োজনে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি।

কবিতার সন্ধ্যা

 সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘ঠিক ঠিক শব্দ ব্যবহারের গুণেই গদ্যের চেয়ে কবিতা আলাদা হয়ে যায়। শব্দের ধ্বনিমাধুর্যই কবিতার প্রাণ। পঙ্কজ সাহার কবিতায় রয়েছে সেই গুণ।’ সম্প্রতি বাংলা আকাদেমি সভাঘরে ‘পঙ্কজ সাহার কবিতার সন্ধ্যা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তাঁর কবিতা নিয়ে আলোচনা, আবৃত্তি, কবিতার গান এমনকী ছড়াও শোনা গেল। ‘আবৃত্তি আন্দোলনের সূত্রপাত ও পঙ্কজ সাহা’ বিষয়ে বললেন অনুপ মতিলাল। উদ্বোধক, সভাপতি ও প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন যথাক্রমে শঙ্খ ঘোষ, অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত, নবনীতা দেব সেন।

তাঁত-ছবি

 তাঁত বোনার কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন তাঁতিরা। শিল্পী থেকে শ্রমিক হওয়ার অবনমন মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কেবল যে অভাব তাঁদের মারছে, তা নয়। মারছে অমর্যাদা, সঙ্গে অভাব অনটন। তাঁতশিল্পে যুক্ত কোনও বিবাহযোগ্য যুবককে পাত্রীর অভাবে অকৃতদার থেকে যেতে হচ্ছে। কারণ, মেয়ের বাপ-মা এতখানি পাষাণ হৃদয় নন যে, জেনেশুনে মেয়েকে ওই অভাবের বাড়িতে মরতে পাঠাবেন। হস্তচালিত তাঁত যেন ধীরে ধীরে ক্রমশ জাদুঘরের অন্দরে প্রবেশ করছে! এ সব নিয়েই সন্দীপ বসুর বিয়াল্লিশ মিনিটের ‘ডাই’ তথ্যচিত্র। চুয়ান্ন বছরের পরিচালক সন্দীপের এই গবেষণামূলক তথ্যচিত্রটি ১৩ জানুয়ারি, সন্ধে ৬টায় গোর্কি সদনে দেখানো হবে।

উত্তরণ

সঙ্গে তারই ছবি: সুমন বল্লভ

 ভিক্টোরিয়ার মৃত্যুর পর লর্ড কার্জন তাঁর স্মৃতিরক্ষার্থে এই সৌধের পরিকল্পনা করেন। পঞ্চম জর্জ ১৯০৬ সালের ৪ জানুয়ারি এই সৌধের শিলান্যাস করেন। এই স্মৃতি স্থাপত্যেরই ১১২তম প্রতিষ্ঠাদিবস উপলক্ষে এষা-র নির্দেশনায় ভাস্বতী দাসের ‘সাদা পৃথিবী কালো পৃথিবী’ গল্প অবলম্বনে দিল্লির ২০১২-র নির্ভয়া কাণ্ডের প্রেক্ষিতে ‘কথা কলম’ প্রযোজিত ‘ব্ল্যাক হোলস আর নট ব্ল্যাক’ নাটকটির সপ্তম অভিনয় হল। সবাই শখের অভিনেতা। পরিচালক এষার কথায়, ‘নির্ভয়ার বেঁচে থাকার লড়াইয়ের সঙ্গে এই অভিনেতাদের উত্তরণ বা প্রতিষ্ঠার লড়াইকে মেলাতে চেয়েছি অভিনয়ের মাধ্যমে। এরা প্রতিবন্ধী নয়, অন্যতর ভাবে সমর্থ।’ 

আলোর শিশু

 শিশুদের অধিকাংশই অনাথ, এডস আক্রান্ত। বাড়ির আর্থিক অবস্থাও কহতব্য নয়। আবার অনেকের বাবা-মা-ও একই রোগে আক্রান্ত। এই রকম বাইশ জন শিশুর চিকিৎসা, গ্রাসাচ্ছাদন থেকে শুরু করে শিক্ষাদীক্ষার ভার নিয়েছে ভোরুকা পাবলিক ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট-এর ‘স্নেহনীড়’। কিছু কাল ধরে এখানে স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন গায়ক পল্লব কীর্তনীয়া। তিনি বলছিলেন, ‘ওদের কথা যখন ভাবি, তখন আমার তিন বছরের বাচ্চাটার মুখ ভেসে আসে চোখে, খুব কষ্ট হয়।’ এ বার ওদের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোর শিশুদের ‘আরও ভাল রাখার’ জন্য ১৭ জানুয়ারি সন্ধে ৬টায় কলাকুঞ্জে ‘আলোর কণ্ঠ’ অনুষ্ঠান। শিশুরা নাচ দেখাবে, গান-কবিতা শোনাবে। দ্বিতীয়ার্ধে গাইবেন পল্লব কীর্তনীয়া।

ধর্ম ও সমাজ

 ফুরফুরা শরিফ কেবল ধর্মীয় তীর্থস্থান নয়, বাঙালি মুসলমানের সংস্কৃতি, সত্তা ও আবেগের অন্যতম কেন্দ্র। দুই বাংলায় ধর্ম ও সমাজ সংস্কারে পির আবু বকর সিদ্দিকি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই বিষয়েই ১৪-১৫ জানুয়ারি ফুরফুরা শরিফের শাহ আবু বকর সিদ্দিকি স্মারক কমিটির উদ্যোগে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্কসার্কাস ক্যাম্পাসে আন্তর্জাতিক আলোচনাচক্র। আমন্ত্রিত বক্তা সুগত বসু, আনিসুজ্জামান, টনি স্টুয়ার্ট, তনিকা সরকার, গামাল ফারুক, রাজিউদ্দিন আকিল প্রমুখ। অন্য দিকে অভিজিৎ রায়, আহমেদ রাজীব হায়দার, শফিউল ইসলাম, ওয়াশিকুর রহমান, নরেন্দ্র দাভলকর, গোবিন্দ পানেসর বা অধ্যাপক কালবুর্গি— এঁরা প্রত্যেককেই ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে প্রাণ দিতে হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতেই শ্রীজাত ফেসবুকের দেওয়ালে একের পর এক কবিতা লিখতে থাকেন। নাম দেন ‘অন্ধকার লেখাগুচ্ছ’। মোট বাহান্নটির থেকে বত্রিশটি কবিতা নিয়ে এ বার তৈরি হয়েছে বাচিকশিল্প, থিয়েটার ও সংগীত সমন্বয়ে এক নিরীক্ষা। দেখা যাবে ১১ জানুয়ারি, সন্ধে ৬টায়, কলামন্দিরে। ‘শঙ্খমালা’ প্রযোজিত অনুষ্ঠানটির সংগীত পরিচালনা করেছেন শ্রীকান্ত নিজে, বাচিক পরিচালনায় সুমন্ত্র সেনগুপ্ত এবং মঞ্চ, আলো ও দৃশ্য পরিকল্পনায় দেবেশ চট্টোপাধ্যায়।

ঐতিহ্য

 কলকাতার কিছু ইতিহাসপ্রেমী মানুষ কয়েক বছর আগে গড়ে তুলেছেন ‘হেরিটেজ বেঙ্গল’। এ বার এই সংগঠনটিই স্বাধীনতার ৭০ বছর উপলক্ষে রবীন্দ্র সদনে আয়োজন করেছে তিন দিন ব্যাপী (১৩-১৫ জানুয়ারি) নানা অনুষ্ঠানের। সম্প্রতি কাশ্মীরের উরিতে নিহত রাজ্যের দুই সৈনিকের পরিবারকে সম্মান ও আর্থিক সাহায্যের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু। তার পর স্বাধীনতার বিভিন্ন ঘটনা প্রদর্শিত হবে এবং প্রকাশ পাবে মার্কস ও এঙ্গেলস-এর ১৮৫৭ সংক্রান্ত প্রবন্ধের সংকলন গ্রন্থ। সংগীত পরিবেশন করবেন স্বাগতালক্ষ্মী, শ্রীকান্ত আচার্য, লোপামুদ্রা।

শ্রদ্ধার্ঘ্য

অভিনয়— ‘যেটা আমার মূল পেশা হয়ে উঠল, যেটা আবার আমার ভালবাসার বিষয়ও বটে— সেটা আমার দেশের মানুষের কী কাজে লাগছে? শুধুমাত্র বিনোদন? সমাজকে বদলাবার বা সমাজ বদলের কাজে লাগবার মতো কোনও ক্ষমতাই এই পেশার নেই? তা হলে কী করব?’ এখনও আত্মপ্রশ্নের মুখোমুখি হন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। এক কথোপকথনে তা তিনি জানিয়েছেন শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়কে, শেষে বলেছেন ‘আমার সামনে সামান্যতম যে সুযোগ আসবে তাই নিয়েই আমি মানুষের পাশে দাঁড়াব... এই নিয়েই বেঁচে থাকা।’ আর দশ দিন বাদেই ৮৩-তে পা দেবেন তিনি, ১৯ জানুয়ারি জন্মদিনে তাঁরই রচিত-অভিনীত দু’টি নাটক অ্যাকাডেমিতে। হেনরিক ইবসেন-এর ‘গোস্ট্‌স’ থেকে ‘বিদেহী’ (নির্দেশক কৌশিক সেন) দুপুর ২-৩০-এ, ফ্রিডরিখ ডুরেনমাট-এর ‘দ্য ভিজিট’ থেকে ‘ফেরা’ (নির্দেশক পৌলমী চট্টোপাধ্যায়) সন্ধে সাড়ে ৬টায়। দু’টিরই প্রযোজক ও এই আয়োজনের উদ্যোক্তা মুখোমুখি-র বিলু দত্ত জানালেন ‘দর্শকদের সঙ্গে ওঁকে শ্রদ্ধা জানাতে সেদিন উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট জনেরা।’ সম্প্রতি যে ‘সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়’ সংখ্যা প্রকাশ করেছে নাট্যচিন্তা (সম্পা: রথীন চক্রবর্তী), তাতে তাঁকে নিয়ে আলোচনা, তাঁর রচনা, সাক্ষাৎকার, আঁকা ছবি। নিয়মিত মঞ্চাভিনয়ে ধকলের কথা তুলতেই বললেন ‘শ্রম হয় বটে, তবে মনের দিক থেকে খুব ভাল থাকি।’

সম্মান

 ছবি: রন্তিদেব সরকার

মহানির্বাণ রোডের গৃহ-অলিন্দ থেকে যে আট বছরের বালকের রবীন্দ্রনাথের শবানুগমনে অশ্রুরুদ্ধ অবলোকন হয়েছিল, সেই অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত (জ. ১৯৩৩) কবির কবোষ্ণ উপস্থিতি অনুভব করেন শান্তিনিকেতনে তাঁর প্রাথমিক বিদ্যাচর্চার দিনগুলোতে। রিখিয়ায় পিতামহের আবাসে যে সৃজনী উদ্ভাসের সূচনা, তারই প্রকাশ প্রথম কাব্যগ্রন্থ যৌবন বাউল-এ। শান্তিনিকেতন থেকে সেন্ট জেভিয়ার্স, প্রেসিডেন্সি হয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসাইটে ছাত্র, লিরিক কবিতা নিয়ে পিএইচ ডি করতে-করতেই যোগ দিলেন যাদবপুরের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগে। ১৯৭১-এ হুমবোল্ট ফাউন্ডেশনের বৃত্তি নিয়ে জার্মানিতে। হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারততত্ত্ব বিভাগে অধ্যাপনার ফাঁকে ফাঁকে রচনা করেছেন অসংখ্য মরমী কবিতা, স্বাদু গদ্য। তাঁর বাংলা অনুবাদে উঠে এসেছে চিরায়ত জার্মান সাহিত্য, জার্মান ভাষায় বাংলার সৃষ্টি। ভারত ও জার্মানি— দু’দেশের সংস্কৃতির সেতু তিনি। জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে যিনি লিখেছেন গিলোটিনে আলপনা কিংবা অতি সম্প্রতি সৃষ্ট তোমরা কী চাও, শিউলি না টিউলিপ? তিনিই অবলীলায় গেয়ে উঠতে পারেন পঞ্চাশ দশকে মুকেশের গাওয়া ‘সুহানা সফর অর ইয়ে মৌসম হসি’। তাঁর অমিত কথনে ধরা দেয় চমৎকার সব কাব্যবন্ধ। জার্মানির গ্যোয়েটে সম্মানের পাশাপাশি পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার, রবীন্দ্র পুরস্কার, সাহিত্য অকাদেমি। সদ্য পেলেন মধ্যপ্রদেশ সরকারের কবীর পুরস্কার।