বাতিস্তম্ভ থেকে বিপজ্জনক ভাবে ঝুলে থাকা কেব্‌ল সংযোগের তারে জড়িয়ে এক যুবকের মৃত্যুর খবর ২৪ ঘণ্টা পরেও পৌঁছল না মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের কানে। অথচ, পদাধিকার বলে শহরে কেব্‌ল ব্যবসার অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা তাঁরই নেতৃত্বাধীন পুর প্রশাসনের। সোমবারের দুর্ঘটনার পরে নানা মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছিল, মাটির উপর থেকে কেব্‌ল সংযোগের তার সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি হওয়ার পরেও কেন যেখানে-সেখানে সেগুলি ফেলা থাকবে? কেনই বা তা মেনে নিচ্ছে পুর প্রশাসন? এ সবের উত্তর পেতেই মেয়রের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ওই বাইকচালকের মৃত্যুর পরে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে পুরসভা?

যা শুনে মেয়রের জবাব, ‘‘কোথায় দুর্ঘটনা হয়েছে? কী ভাবে হয়েছে?’’ এমনকী ওই দুর্ঘটনার বিষয়ে তিনি এ-ও বলেন, ‘‘এমন খবর আমার জানা নেই।’’ পরে পুরো বিষয়টি শুনে বলেন, ‘‘খোঁজ নিয়ে জানাব।’’

সোমবারের দুর্ঘটনার পরে পুলিশ সরাসরি জানিয়েছে, শহরে কেব্‌ল টিভির ব্যবসা ও তার লাগানোর অনুমতি দেওয়া হয় পুরসভা থেকেই। কিন্তু ঘটনার পরে একটা দিন কেটে গেলেও পুর প্রশাসনের যে হেলদোল নেই, তার প্রমাণ মিলল পুরসভার গায়েই এস এন ব্যানার্জি রোড ও চাঁদনি চকের মোড়ে। যা আবার ট্র্যাফিক পুলিশের একটি কিয়স্কের গা ঘেঁষে। বিদ্যুৎস্তম্ভে আটকানো কেব্‌লের তার পড়ে রয়েছে রাস্তাতেই। চলন্ত কোনও মোটরবাইক খেয়াল না করলে, ওই তারে আটকে দুর্ঘটনা অনিবার্য। কিন্তু কারও কোনও হুঁশ নেই। পথচারীদের কেউ কেউ ওই রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গিয়ে হাত দিয়ে তার সরিয়ে দিচ্ছেন। অথচ, কিয়স্কের ভিতরে থাকা পুলিশকর্মীরই কোনও খেয়াল নেই।

বিষয়টি পুরসভার একাধিক ইঞ্জিনিয়ারকে জানাতেই তাঁদের বক্তব্য, ‘‘সবই জানি। কিন্তু কর্তাদের হুকুম না এলে কিছু করতে যাব না।’’ তাঁরা জানান, বাম পুরবোর্ড ক্ষমতায় থাকার সময়ে বর্তমান মেয়র পারিষদ, তৎকালীন বিরোধী কাউন্সিলর অতীন ঘোষ মাটির উপর দিয়ে কেব্‌ল সংযোগের তার ব্যবহার বন্ধ করতে পুর অধিবেশনে দাবি তুলেছিলেন। আজ তাঁদেরই বোর্ড ক্ষমতায়। অথচ, গত সাত বছরেরও তাঁরা কিছু করতে পারেননি। অতীনবাবু নিজেও সে কথা তুলে বলেন, ‘‘আজও মনে করি, শহরবাসীর সুরক্ষায় মাটির উপরে কেব্‌লের তার নিষিদ্ধ করা হোক।’’ সুরক্ষার পাশাপাশি শহর সুন্দর রাখতে অবিলম্বে শহর জুড়ে কেব্‌ল তারের কুণ্ডলীর বিরুদ্ধে কড়া অভিযান করতে চান আরও অনেকে। কিন্তু সবাই তাকিয়ে মেয়রের দিকে।