বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২৫ বছর পূর্তিতে রাজ্যের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির সমাবেশ। তার জেরে বুধবার দফায় দফায় যানজট হল মহানগরে। এই যানজটের ফলে কাজের দিনে সকাল, দুপুর ও বিকেলে ভোগান্তি সইল আমজনতা।

পুলিশ সূত্রের খবর, বাবরি কাণ্ডের প্রতিবাদে এ দিন দুপুরে গাঁধী মূর্তির পাদদেশে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমাবেশ ছিল। তার জন্য সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে কর্মী-সমর্থকেরা জড়ো হতে শুরু করেছিলেন। ভিড়ের জন্য ওই এলাকায় যান চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। সকাল ১১টা নাগাদ মেয়ো রোড খানিকটা বন্ধ করে অন্য রাস্তা দিয়ে গাড়ি ঘোরানো হচ্ছিল। কিছু ক্ষণ পরে ওই রাস্তা পুরো বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বন্ধ করা হয় কুইন্স ওয়ে এবং হসপিটাল রোডও। শহরের এই তিন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দক্ষিণ ও মধ্য কলকাতার বিভিন্ন রাস্তায় যানবাহনের বিপুল চাপ পড়ে।

ট্র্যাফিক বিভাগের এক কর্তা জানিয়েছেন, হাজরা থেকে আসা মিছিলের জন্য জওহরলাল নেহরু রোড এবং শিয়ালদহ ও হাওড়া থেকে আসা মিছিলের জন্য মৌলালি, এস এন ব্যানার্জি, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, ব্রেবোর্ন রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যানজট হয়। ওই কর্তা বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দলের লোকজন কার্যত একই সময়ে সভাস্থলে পৌঁছনোয় গাড়িগুলিকে মাঠে দাঁড় করানো যায়নি। রেড রোডের উপরেই মিছিলের বাস দাঁড় করানো হয়েছিল।’’ পুলিশ সূত্রের খবর, সভাস্থলের ভিড়ের জন্য এজেসি বসু রোড, জওহরলাল নেহরু রোডে ভিড় জমে যায়। মা উ়ড়ালপুলেও যান চলাচল ঢিমে হয়ে পড়েছিল। এই পরিস্থিতির মধ্যেই এজেসি বসু উড়ালপুলে একটি গাড়ি খারাপ হওয়ায় পার্ক সার্কাস থেকে পিটিএসমুখী গাড়ি চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়। শেষমেশ বিকেল ৩টে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

পুলিশ সূত্রের খবর, বিকেল চারটের পরে আবার বাবরি কাণ্ডের প্রতিবাদেই ধর্মতলা থেকে শুরু হয় বামেদের মিছিল। তার ফলে ডোরিনা ক্রসিং আটকে যায়। পরিস্থিতি সামলাতে মহাত্মা গাঁধী রোড থেকে ধর্মতলার দিকে আসা গা়ড়িগুলিকে অন্য রাস্তা দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। বিকেল ৫টা নাগাদ ফের ধর্মতলা মোড়ে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। অন্য দিকে, বামেদের মিছিল ধর্মতলা থেকে রাজাবাজারের দিকে এগোনোর ফলে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, মৌলালি, লেনিন সরণি, এজেসি বসু রোড, এপিসি রোডে যান চলাচল আটকে যায়। মানিকতলার দিক থেকে আসা গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। লালবাজারের এক কর্তার কথায়, ‘‘বামেদের মিছিলেও প্রচুর জমায়েত হয়েছিল। তার ফলেই যান চলাচলে সমস্যা হয়। সন্ধ্যায় রাজাবাজার মো়ড়ও আটকে গিয়েছিল।’’ পুলিশ সূত্রের খবর, সন্ধ্যা ৭টার পরে শিয়ালদহ এবং সংলগ্ন এলাকায় ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।