রবীন্দ্র সরোবরে টয় ট্রেনের স্মৃতি এখনও অনেকের মনেই টাটকা। সরোবর ঘুরে দেখার জন্য ফের ব্যবস্থা করছেন কলকাতা উন্নয়ন পর্ষদ (কেআইটি) কর্তৃপক্ষ। এ বার অবশ্য টয় ট্রেনের আদলে চলবে ব্যাটারিচালিত লম্বা বড় গাড়ি।

রাজ্যের পুর এবং নগরয়োন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‘পরিবেশ দূযণ যাতে না হয়, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই রবীন্দ্র সরোবর ঘুরে দেখার জন্য ব্যাটারিচালিত বড় গাড়ি চালুর পরিকল্পনা করতে কেআইটি কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প কার্যকরী হলে সরোবরে ঘুরতে আসা অনেকেই উপকৃত হবেন। পরিকল্পনা হওয়ার পরে প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হবে।’’

সম্প্রতি, রবীন্দ্র সরোবর সৌন্দার্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাটারিচালিত গাড়ি ব্যবহারের কথা ভাবা হয়েছে। কেআইটি সূত্রে জানানো হয়েছে, সরাবরের পাড় দিয়ে যে রাস্তা রয়েছে, সেখানেই এই গাড়ি চলবে। দর্শকদের আকৃষ্ট করতে ইতিমধ্যেই আধুনিক মানের একটি ফোয়ারা রয়েছে। সরোবরের মধ্যস্থিত দ্বীপগুলিকেও সাজানো হচ্ছে। সরোবরের ধারের রাস্তাও অনেক উন্নতমানের করা হয়েছে। এ ছাড়াও সরোবরে রয়েছে অনেক ধরনের গাছ। গাছ চিহ্নিতকরণ এবং নির্দিষ্ট গাছের উপকারিতা নিয়ে একটি বিশেষ়জ্ঞ কমিটি তৈরি করে নির্দিষ্ট গাছের গায়ে তথ্য লেখা থাকবে। গাড়িতে ঘুরতে ঘুরতে সকলে এগুলি দেখতে পাবেন।

কেআইটি-র এক কর্তার কথায়, আটের দশকে সরোবরে লাইন পেতে টয় ট্রেন চালানো হতো।

তার জন্য টালিগঞ্জের দিকে সরোবরের যে অংশ রয়েছে সেই এলাকা ঘুরে লিলিপুলের কাছে এসে থামত। গোটা অঞ্চলটা প্রায় দুই কিলোমিটার। কেআইটি সূত্রে জানানো হয়েছে, ১৯৮১ সালে এই প্রকল্পের শিলান্যাস করা হয়েছিল। সেই সময়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, একটি বহিরাগত সংস্থাকে দিয়েই টয় ট্রেন চালানো হবে এবং তারাই এই ট্রেন রক্ষণাবেক্ষণ করবে। সে ভাবেই এই ট্রেন চালানো হতো। ১৯৮৫ সালে রাজ্যার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এই প্রকল্প উদ্বেধন করেন। কোনও কারণে আগুন লেগে যাওয়ায় এই টয় ট্রেনের কামরা পুড়ে গিয়েছিল। এই ঘটনার পরে, ১৯৮৯ সালে সরোবরে টয় ট্রেন চলা বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীকালে, সরোবরে টয় ট্রেন ব্যবহারের জন্য কেআইটি উদ্যোগী হলেও তা বাস্তবায়িত করা হয়নি কেন?

কেআইটি কর্তৃপক্ষ জানান, টয় ট্রেনের জন্য যে পরিকাঠামো তৈরি ছিল তা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ট্রেনের লাইনও এখন আর নেই। লেক গার্ডেন্স উড়ালপুল তৈরি হওয়ার ফলে এখন আর নতুন করে ওই জায়গায় টয় ট্রেনের লাইন পাতা সম্ভব নয়। তা ছাড়া, এখন রবীন্দ্র সরোবরে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে। বেশির ভাগ টয় ট্রেনই ডিজেলেই চালানো হতো। ফলে নতুন করে তা আর ফিরিয়ে আনতে চান না কেআইটি কর্তৃপক্ষ। মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও বলেন, ‘‘ডিজেল চালিত কোনও গাড়ি বা টয় ট্রেন সরোবরে কখনওই চলতে দেওয়া যাবে না। সরোবরের মধ্যে এমনিতেই ডিজেল বা পেট্রোল চালিত গাড়ি প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।’’