বর্ষশেষের উদ্‌যাপনে পথে মানুষের ঢল নামতে শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। এর মধ্যে এ বছরের শেষ দিনটি পড়েছে রবিবার। ফলে ওই দিন প্রচুর মানুষ আনন্দে মেতে উঠতে পথে নামবেন। সে কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটোসাঁটো করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। সেই প্রস্তুতি পর্বে বিশেষ ভাবে মাথায় রাখা হচ্ছে, অন্য বার কোথায় ইভটিজিং এবং শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছিল। পাশাপাশি, বেশি সংখ্যক প্রযুক্তির ব্যবহার ও অতিরিক্ত পুলিশ নামানোর কথাও চূড়ান্ত হয়েছে।

শনিবার বিধাননগর পুলিশ জানিয়েছে, কলকাতার মতোই বর্ষশেষে বিশেষ নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ওই দিন বিকেল চারটে থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত নিরাপত্তার এই বিশেষ ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। গত কয়েক বছরের বিভিন্ন ঘটনা পর্যালোচনা করে কয়েকটি জায়গায় বিশেষ পদক্ষেপ করা হচ্ছে। যেমন ইকো পার্ক-সহ বিভিন্ন বিনোদন পার্ক এবং শপিং মলগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই জায়গাগুলি, এ বছর ভিড়ের নিরিখে টেক্কা দিয়েছে কলকাতাকে। তাই শেষের দিনের বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। সল্টলেক ও নিউ টাউন থেকে দক্ষিণ, উত্তর, পূর্ব কলকাতা ও শহরতলি, হাওড়া এবং বিমানবন্দরে পৌঁছোনোর জন্য শহরে অতিরিক্ত শতাধিক বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইকো পার্কের ভিড়কে মাথায় রেখে নিউ টাউনে মেজর আর্টারিয়াল রোডে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

গত কয়েক বছরে বর্ষশেষের রাতে ইভটিজিং ও শ্লীলতাহানি হয়েছে, এমন জায়গাগুলি চিহ্নিত করে ফেলেছে বিধাননগর পুলিশ। এ বছর সে সব রুখতে বিশেষ দলও তৈরি করা হয়েছে। সাদা পোশাকে নজরদারি চালানো হবে সেই সব এলাকায়। বিশেষ ওই এলাকার বাইরেও কমিশনারেটের অধীন অন্যত্র ইভটিজারদের রুখতে বিশেষ নজরদারি থাকবে, থাকবে সাদা পোশাকের নজরদারি। বাড়ানো হচ্ছে মোবাইল পেট্রোলিং। সিসিটিভি, স্পিড-ক্যাম, ব্রেথ অ্যানালাইজারও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। হেলমেটবিহীন মোটরবাইক চালকদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে পুলিশ। বর্ষশেষের রাতে যেখানে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে এবং পানশালাগুলিতে যাতে কিশোর-কিশোরীদের মদ সরবরাহ না করা হয়, সে জন্য আয়োজকদের দিয়ে লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যথা ঘটলে আয়োজকদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভিআইপি রোড, সল্টলেক, নিউ টাউনের রাস্তায় টহলদারি থাকবে রাতভর। মাদক বিক্রি রুখতে নজরদারি শুরু করেছে পুলিশ।

কমিশনারেট এলাকার নির্জন রাস্তায় যাতে অবাঞ্ছিত ঘটনা না ঘটে, তাই সাদা পোশাকের পুলিশের টহলদারি বাড়ানো হচ্ছে। বিধাননগর পুলিশ সূত্রের খবর, সব মিলিয়ে নিরাপত্তা বাড়াতে আটশ’র বেশি পুলিশ পথে নামতে চলেছে। তার মধ্যে মহিলা পুলিশের সংখ্যা যথেষ্ট।