ভ্রমণ সংস্থার হাত ধরে উত্তরপ্রদেশ থেকে পুণ্য অর্জনের আশায় গঙ্গাসাগরে এসে সর্বস্ব খুইয়েছিলেন সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ। সৌজন্য ‘হ্যাম রেডিও,’ দলের লোকেদের খুঁজে পেলেন তিনি। রক্ষা পেলেন দুর্বত্তদের হাত থেকেও।

হ্যাম রেডিও আসলে ওয়াকিটকির মতো এক বিশেষ ওয়্যারলেস ব্যবস্থা। জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগের জন্য এই রেডিও কোনও বিশেষ এলাকাতেই কাজ করে। সেই রেডিও-র মাধ্যমে সম্প্রচার করার পরেই দলের লোকেদের ফিরে পান ওই বৃদ্ধ।

উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধের নাম সন্তোষ টিন্নু। একটি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে গঙ্গাসাগরে এসেছিলেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে কোনও ভাবে সঙ্গীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন ওই বৃদ্ধ। সঙ্গীদের কাছে ফিরিয়ে দিতে এজেন্সিটি বৃদ্ধের কাছে আরও ১০ হাজার টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ। সন্তোষবাবুর বলেন, “টাকা না দিতে পারলে সাগরে ফেলে চলে যাওয়ারও হুমকিও দেয় ওরা।” তাঁর পরিচয় পত্রও ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

পুলিশ সূত্রের খবর, হ্যাম রেডিও-র মাধ্যমে বিষয়টি ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নজরে আসে। ততক্ষণে ভ্রমণ সংস্থার লোকজন ওই বৃদ্ধকে ফেলে চম্পট দিয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার লোকজনেই সন্তোষবাবুকে পুলিশ কন্ট্রোলরুমে নিয়ে গিয়ে বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানান।

পুলিশের সাহায্যে ওই সংস্থার সদস্যরা উত্তরপ্রদেশে সন্তোষবাবুর বাড়িতে যোগাযোগ করেন। সাগরে আসা তাঁর অন্য সঙ্গীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয় হ্যাম রেডিও-র মাধ্যমে। খোঁজ মেলে দলটির। সন্তোষবাবুকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় দলের সদস্যদের সঙ্গে।

ভারতে হ্যাম রেডিওর ১৬ হাজারেরও বেশি লাইসেন্সযুক্ত ব্যবহারকারী রয়েছেন। হুদহুদ ঝড়ের সময়েও স্বজনহারাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করেছিল এই হ্যাম রেডিও প্রযুক্তি। সংস্থার সদস্য অম্বরিশ নাগ বিশ্বাস জানান, দশ বছরের বেশি সময় ধরে হারিয়ে যাওয়া পুণ্যার্থীদের প্রিয়জনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ নিয়েই তাঁরা সাগরে আসছেন। রীতিমতো পরীক্ষা দিয়ে এ বার হ্যাম রেডিও চালানোর দায়িত্ব পেয়েছে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সাবর্নী নাগ বিশ্বাস।

উচ্ছ্বসিত ছাত্রীটি জানায়, এ পর্যন্ত পঞ্চাশেরও বেশি পুণ্যার্থীকে সঙ্গীদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে সে। তবে বছরের পর বছর ধরে কাজ করে গেলেও সাগরমেলায় কর্মরত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তালিকায় তাঁদের নাম না থাকায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে বলে জানান অম্বিকেশবাবু।