কারখানা মালিকের কাছে বেতন নিতে গিয়েছিলেন যুবকটি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরে মালিক আসেন। তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে অভিযোগ। শ্রমিকটি অনুযোগের সুরে বলেন, ‘‘তোর জন্য আমাকে এতক্ষণ অপেক্ষা করতে হল।’’

অভিযোগ, এই কথা শুনে মালিক তরুণ মিত্র তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে। ধাক্কাধাক্কি, মারধর শুরু করে।  মদ্যপ অবস্থায় কথা বাড়িয়ে লাভ হবে না বুঝে উত্তম মিস্ত্রি নামে ওই শ্রমিক বলেন, ‘‘যা কথা কাল হবে।’’ কিন্তু তাতে আক্রমণ থামেনি। তরুণ কামড়ে উত্তমের আঙুল কেটে দেয় বলে অভিযোগ। কাটা আঙুল মাটিতে ছিটকে পড়ে মাটিতে।

রক্তে ভেসে যাচ্ছিলেন উত্তম। কোনও রকমে দৌড়ে বাড়ি গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরিবারের লোকজন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করান। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে হাবরার বেড়গুম সরকারপাড়ায়। উত্তমের ডান হাতের তর্জনীর একাংশ কেটে গিয়েছে। পরিবারের লোকজন ঘটনার পরে ছিঁড়ে যাওয়া আঙুলের টুকরো উদ্ধার করে হাবরা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের সুপার শঙ্করলাল ঘোষ বলেন, ‘‘অস্ত্রোপচার করে আঙুল জো়ড়া লাগানোর চেষ্টা হচ্ছে।’’

রাতে উত্তমের বাবা আনন্দবাবু থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, তরুণ পলাতক। তার খোঁজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এলাকায় মাথা গরম, বদমেজাজি বলে দুর্নাম আছে তরুণের। অনেককে মারধরের ঘটনায় অতীতে নাম জড়িয়েছে তার। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস তিনেক হল বাড়ির কাছে তরুণের লাড্ডু কারখানায় কাজ নিয়েছিলেন উত্তম। দিনের শেষে বেতন পাওয়ার কথা। বৃহস্পতিবার কাজে শেষ করে বিকেলের দিকে উত্তম মালিকের বাড়িতে গিয়েছিলেন সেই টাকা নিতে। বাড়ি ছিল না তরুণ। ফেরার পরেই ওই ঘটনা।

হাসপাতালে শুয়ে উত্তম বলেন, ‘‘মালিকের আসতে দেরি হচ্ছে দেখে ফোন করি। কয়েক ঘণ্টা পরেও না ফেরায় আমি চলে আসছিলাম। এমন সময় রাত ৯টা নাগাদ দেখি, বাইক নিয়ে ও আসছে। পথে দেখা হয়ে যায়। আমাকে মারধর শুরু করে।’’