আন্তর্জাতিক ছোঁয়া পেতে চলেছে পূর্বস্থলীর ১৭তম লোক সংস্কৃতি ও কৃষি উৎসব। আজ, বৃহস্পতিবার পূর্বস্থলী ১ ব্লকের বিদ্যানগর থেকে হেমায়েতপুর মোড় পর্যন্ত বর্ণাঢ্য মিছিল দিয়ে উৎসবের সূচনা হবে। মিছিলেই দেখা যাবে দেশ-বিদেশের শিল্পীদের ট্যাবলো। অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা তথা মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, ‘‘প্রতিবারই কিছু না কিছু নতুন করার চেষ্টা হয়। হারিয়ে যাওয়া লোকগান তুলে ধরা হয়। আশা করি এ বারেও মানুষের প্রত্যাশা মিটবে।’’

উদ্যোক্তারা জানান, এ বার রাশিয়া, নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটান থেকে লোকশিল্পীরা যোগ দেবেন। তুলে ধরবেন সে দেশের নিজস্ব নৃত্যের আঙ্গিক। থাকবে এ দেশের নানা নৃত্যশৈলিও। যেমন, ওড়িশার সম্বলপুরি, গোটিপুয়া, ওডিসি, নাগাল্যান্ডের ওয়ারিয়র, কেরালার ভারতনাট্যম, কুচিপুরি, তামিলনাড়ুর কারাগম, উত্তরপ্রদেশের ময়ূর, চোকরি। থাকছে এ রাজ্যের ছৌ, রায়বেঁশে, ভাদু, টুসু, জারি, রবীন্দ্রনৃত্যও। উদ্যোক্তাদের দাবি, ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলা উৎসবে দেশ বিদেশের হাজারেরও বেশি শিল্পী যোগ দেবেন। মেলার একেক দিন একেকটি দিবস হিসেবেও আলাদা করা হয়েছে। যেমন, প্রথম দিন ছাত্র-যুব দিবস, দ্বিতীয় দিন নারি-শিশু দিবস। ছাত্র-যুব দিবসে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ, ভাবনা তুলে ধরা হবে। নারী-শিশু দিবসে আবার নানা আলোচনায় জোর দেওয়া হবে তাঁদের স্বাস্থ্যে। এ ছাড়াও শ্রমজীবী, স্বয়ম্ভর, আদিবাসী, প্রাণিসম্পদ ও কৃষক দিবস পালন করা হবে।

উদ্যোক্তারা জানান, বুধবার রাত থেকেই বাইরের শিল্পীরা এসে যাবেন। এসটিকেকে রোডের দু’ধারে তরুণ সঙ্ঘের মাঠ ও শ্রীরামপুর ইউনাইটেড হাইস্কুলের মাঠে ইতিমধ্যেই আধুনিক মঞ্চ প্রস্তুত করা হচ্ছে। মোট ১১৫টি স্টল থাকবে মেলায়। কৃষিজ দ্রব্য, ফুলের প্রদর্শনী, জেলার বিখ্যাত মিষ্টির আলাদা স্টলের সঙ্গেই থাকবে পিঠেপুলির স্টল। সেখানে ঢেঁকিতে সরাসরি ধান থেকে চাল বের করে পিঠেপুলি তৈরি করে বিক্রি করা হবে। উদ্যোক্তাদের দাবি, উৎসবেএসে শিকড়ের কাছে পৌঁছবেন দর্শকেরা।