ছবি খুঁজছেন। কিন্তু এখনকার ছবি কই! সবই যে পুরনো আমলের। বুধবার দুর্গাপুরে একটি দলীয় সম্মেলনে যোগ দিতে বাছাই করতে করতেই পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি ভি শিবদাসনের আক্ষেপ,  ‘‘দিদির এখনকার ছবিই পাচ্ছি না। তাই আপাতত পুরনো ছবিই কিনলাম।’’

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি বিধানসভায় শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘরে নিজের পুরনো ছবি দেখে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। সটান বলেছিলেন, ‘এই ছবিটা রেখেছেন কেন? আমি কি এতই মোটা!’— মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরে ছবি-বদল করে মুখ্যমন্ত্রীর এখনকার ছবি আনেন শিক্ষামন্ত্রী। ছবি-বদল হয় কলকাতা পুরসভাতেও। কিন্তু পশ্চিম বর্ধমানে সেই খবর নিয়ে শাসক দলের অন্দরে চর্চা হলেও ছবি-বদল খুব একটা দেখা যায়নি।

মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো ছবি কোথায় কোথায় রয়েছে?

বুধবার বেনাচিতিতে তৃণমূলের দলীয় সম্মেলন ছিল। নাচন রোড থেকে সম্মেলনস্থল পর্যন্ত সব গেট এমনকী মঞ্চেও শোভা পেতে দেখা গেল দলনেত্রীর সেই পুরনো ছবি। দলের মুখপত্র স্টল দিয়েছিল। সেখানেও সেই পুরনো ছবিই। কিন্তু পুরনো ছবি যে নাপসন্দ স্বয়ং দলনেত্রীরই? প্রসঙ্গ তুলতেই বিব্রত জেলা সভাপতি। তিনি বলেই দিলেন, ‘‘সবাইকে বলেছি দলনেত্রীর এখনকার ছবি ব্যবহার করতে। আমি নিজেও তাই চাইছি। কিন্তু এখনকার ছবি খুঁজে পাচ্ছি না।’’

দুর্গাপুর পুরসভায় খোঁজ নিয়ে জানা গেল, চেয়ারম্যান মৃগেন্দ্রনাথ পালের ঘরের রূপ-বদল হচ্ছে। তাই সে ঘরে এখন মুখ্যমন্ত্রীর কোনও ছবিই নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতেই চেয়ারম্যানও খানিক বিব্রত হয়ে বললেন, ‘‘জানা ছিল না। যা আছে, সবই তো মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো ছবি। দেখি, এখনকার ছবি কোথায় পাই!’’ মেয়র দিলীপ অগস্তিও বলে দিলেন, ‘‘ঠিক আছে। মুখ্যমন্ত্রীর বর্তমান ছবি জোগাড়ের চেষ্টা করতে বলে দেব।’’ মেয়র পারিষদ (সড়ক) অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই পুরনো ছবি। তিনিও বললেন, ‘‘দ্রুত বদলে ফেলব।’’

তাঁদের ঘরে থাকা ছবি অবশ্য ‘পুরনো’ নয় বলেই দাবি করেছেন আসানসোল চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায় ও মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি। অমরনাথবাবুর দাবি, ‘‘ছবি পুরনো নয়।’’ জিতেন্দ্রবাবুর ঘরের মাথার উপরেই রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি। সে দিকে তাকিয়েই তাঁর দাবি, ‘‘আমার ঘরে দিদির নতুন ছবিই রয়েছে। দিদিকে খুব ভাল লাগছে এই ছবিতে।’’

তবে তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর বর্তমান ছবি সে ভাবে কোথাও বিক্রি হয় না। যা মেলে, সবই পুরনো ছবি। তাই আপাতত দলনেত্রীর এখনকার ছবি জোগাড়টাই চ্যালেঞ্জ, দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের।