ভুল চিকিৎসায় বাঁ হাতের তিনটি আঙুলে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে বলে দুর্গাপুরের শোভাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে মহকুমাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন কাঁকসার সোকনার বাসিন্দা তপন বাউড়ি। মহকুমাশাসক শঙ্খ সাঁতরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

তপনবাবু বাঁশকোপার একটি বেসরকারি স্পঞ্জ আয়রন কারখানার ঠিকাকর্মী। গত ২১ ডিসেম্বর শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে দুর্গাপুরের ইএসআই হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন তাঁকে ‘রেফার’ করা হয় শোভাপুরের ওই বেসরকারি হাসপাতালে। তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে বাঁ হাতে চ্যানেল করার জায়গাটি শুকোয়নি। লিখিত অভিযোগে তিনি দাবি করেছেন, সে কথা চিকিৎসকদের বললে একটি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। এরপরেই বাঁ হাতে জ্বালা শুরু হয়। তিনটি আঙুলে সংক্রমণও ছড়িয়ে পড়ে। ৫ জানুয়ারি ওই অবস্থায় তাঁকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। জ্বালা সহ্য করতে না পেরে ইএসআই হাসপাতালে গেলে তাঁকে ফের ওই বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তপনবাবু ২৫ জানুয়ারি আবার সেখানে ভর্তি হন। তিনি বলেন, ‘‘সেখানে চিকিৎসক জানান, আমার আঙুল তিনটি কেটে বাদ দিতে হবে। সে জন্য বন্ডে সই করতে বলেন। তা না করায় ২৮ জানুয়ারি ছেড়ে দেওয়া হয়।’’

সোমবার তপনবাবু বলেন, ‘‘আমার দুই সন্তান রয়েছে। পরিবারের একমাত্র রোজগেরেও আমি। হাতের আঙুল বাদ গেলে আর কারখানায় কাজ পাব না।’’ মহকুমাশাসক ইতিমধ্যেই তিনি ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তপনবাবুর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। শঙ্খবাবু বলেন, ‘‘অভিযোগ পেয়ে কর্তৃপক্ষকে তলব করি। একজন প্রতিনিধি এসেছিলেন। তিনি উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওযার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আগে উনি সুস্থ হয়ে উঠুন। তারপর কেন এমন হল তদন্ত করে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

প্রশাসন সূত্রে খবর, এই ধরণের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গড়া হয়েছে। কমিটিতে মহকুমা হাসপাতালের সুপার, একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন। সেই কমিটিই এই অভিযোগের তদন্ত করবে বলেও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।