একটি দূরপাল্লার বাসকে বেআইনি ভাবে আটকে রাখার অভিযোগ উঠল জনা কয়েক তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে। যাত্রীদের জোর করে তাঁর বাস থেকে নামিয়ে দেন বলেও অভিযোগ। পরে অন্য শ্রমিক সংগঠনের প্রতিরোধের মুখে পড়ে অভিযুক্তরা পালান। সোমবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে বরাকর বাসস্ট্যান্ডে। বাসমালিক ও আসানসোল বাস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তৃণমূলের জেলা সভাপতির কাছে এর বিহিত চেয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন সকাল ৮টা নাগাদ দুর্গাপুরগামী একটি দূরপাল্লার বাস বরাকর বাসস্ট্যান্ড থেকে রওনা দেওয়ার সময় জনা কয়েক তৃণমূল কর্মী বাসের পথ আটকান। তার পরে তাঁরা বাসের সামনে তৃণমূলের পতাকা বেঁধে দেন। অভিযোগ, চালক কারণ জানতে চাইলে, ওই তৃণমূল কর্মীরা গাড়ি বন্ধ করার নির্দেশ দেন এবং যাত্রীদের জোর করে বাস থেকে নামিয়ে দেন। আতঙ্কিত যাত্রীরা বাস থেকে নেমে দূরে চলে যান। এই ঘটনায় গোটা বাসস্ট্যান্ড চত্বর জুড়ে উত্তেজনা ছড়ায়। ঘণ্টা চারেক এই অবস্থা চলার পরে আইএনটিইউসি ও সিটুর পরিবহণ কর্মী সংগঠনের সদস্যরা এলাকায় পৌঁছে প্রতিবাদ করেন। অবস্থা বেগতিক বুঝে অভিযুক্তেরা এলাকা ছেড়ে চলে যান। তবে সময় পেরিয়ে যাওয়ায় ওই বাসটি আর দুর্গাপুরের যেতে পারেনি।

প্রশ্ন উঠেছে হঠাৎ করে ওই বাসটিকে আটকানো হল কেন?

আসানসোল বড়বাস মালিক অ্যাসোসিয়েশনের বরাকরের আহ্বায়ক রাজেন মুখোপাধ্যায়ের দাবি, এ দিন সকালে হঠাৎ করেই তৃণমূলের কর্মীরা এসে নির্দেশ দেন, তাঁদের বানানো কাউন্টার থেকে টিকিট কেটেই যাত্রীদের বাসে চাপতে হবে। এই নির্দেশের প্রতিবাদ করেন ওই বাসের চালক ও কর্মী। অ্যাসোসিয়েশন বা মালিকের অনুমতি ছাড়া তাঁরা এই নির্দেশ মানবেন না বলে জানিয়ে দেন। এর পরেই বাসের মুখে দলের পতাকা বেঁধে বাস চালাতে বাধা দেওয়া হয়। রাজেনবাবু বলেন, ‘‘এটা অন্যায় আবদার। রাজেশ ঠাকুর নামের এক ব্যক্তি এই অন্যায় আচরণ করেছেন। আমরা তৃণমূলের জেলা সভাপতিকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি।’’ তাঁর দাবি, বাসস্ট্যান্ডের কাউন্টার থেকে যাত্রীদের টিকিট কেটে ওঠার কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা একতরফা গা জোয়ারি।

বাস চালাতে না পেরে সপ্তাহের প্রথম দিনই কয়েক হাজার টাকা লোকসান হল বলে জানিয়েছেন ওই বাসের মালিক দীনদয়াল মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘‘রাজেশ ঠাকুর নামের এক ব্যাক্তি জোর করে আমার বাসের চালক ও কর্মীকে বাস চালাতে দেননি।’’ তিনি জানিয়েছেন, অ্যাসোসিয়েশনের সিদ্ধান্ত ছাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাউন্টার থেকে কোনও ভাবেই যাত্রীদের টিকিট কাটতে দেওয়া হবে না। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই রাজেশ ঠাকুর নিজেকে তৃণমূল কর্মী পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘‘আমি এমন কিছুই করিনি। মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।’’

এই ধরনের আচরণ মোটেই কাম্য নয় জানিয়ে, তৃণমূলের জেলা সভাপতি ভি শিবদাসন বলেন, ‘‘বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি। তবে দলের কেউ অন্যায় করছে প্রমাণিত হলে, উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’