দুষ্কৃতীদের মোটর বাইক পিছন থেকে টেনে ধরেছিলেন তরুণী। হাতে ধারাল কিছু দিয়ে কোপ মারে একজন। জখম হয়েছেন বছর তেইশের পূজা বিশ্বাস। কিন্তু তিনি রুখে দাঁড়ানোয় তাঁর মোবাইলটি কব্জা করতে পারেনি দুষ্কৃতীরা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে অশোকনগর থানার গোলবাজার থেকে শহিদ সনদ যাওয়ার রাস্তায়। জখম তরুণীর চিকিৎসা হয়েছে অশোকনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

পূজার বাড়ি স্থানীয় কাঁকপুল নয়াসমাজ এলাকায়। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। কিছু দিন আগে বারাসতে একটি নির্মাণ সংস্থায় কাজে যোগ দিয়েছেন পূজা। গোলবাজারে এক ছাত্রকে এখনও পড়ান। মঙ্গলবার যাচ্ছিলেন সেখানেই।

দুষ্কৃতীদের ধাক্কায় মাটিতে পড়ে চোট পেয়েও দমে যাননি পূজা। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, মোটর বাইক পিছন থেকে টেনে ধরার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর এক সম্পর্কিত দাদা কৌশিক  দাস বলেন, ‘‘বোন বাইক টেনে ধরায় পিছনে বসা এক দুষ্কৃতী ধারাল কিছু দিয়ে আঘাত করে। দু’টি হাতই কেটে গিয়েছে।’’

ঘটনার সময়ে এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন এক ব্যক্তি। তিনি নিজের সাইকেলটিই বাইকের দিকে ছুঁড়ে দেন। পিছনে বসা এক দুষ্কৃতী সাইকেলের ধাক্কায় পড়েও যায়। কিন্তু অন্ধকারের মধ্যে পাশের গলি দিয়ে পালায় সে। পূজা জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীদের মুখ মাফলার দিয়ে ঢাকা ছিল। শীতের সন্ধ্যায় রাস্তায় লোকজনও তেমন ছিল না।

এ দিকে, তরুণীর চিৎকারে ততক্ষণে লোক জড়ো হয়ে যায়। অশোকনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় পূজাকে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা হয় তাঁর।

পূজা এখনও আতঙ্কে ভুগছেন। পিসির বাড়ি চলে গিয়েছেন। কিন্তু তাঁর ভূমিকায় এলাকার মানুষ গর্বিত। স্থানীয় এক মহিলার কথায়, ‘‘ও রুখে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু চোট পাওয়ায় একটু ভয়ে ভয়ে আছে। নিশ্চয়ই দ্রুত সে সব কাটিয়ে উঠবে।’’