দুর্ঘটনা রুখতে যখন ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ কর্মসূচি করা হচ্ছে রাজ্য জুড়ে, তখন গত দেড় বছরে প্রায় ৬ হাজার জাল লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত হয়েছে শুধু উত্তর ২৪ পরগনা পরিবহণ দফতরেই। এর মধ্যে বিধাননগর, বাগুইআটি, দমদম, বারাসত, বসিরহাট এলাকার ব্যক্তিগত গাড়িমালিক যেমন আছেন, তেমনই আছেন পেশাদার (ট্রাক, বাস) চালকও। গত পাঁচ বছরে এই জেলায় যত লাইসেন্স নবীকরণ বা পরিবর্ধিত হয়েছে (যেমন মোটরবাইকের লাইসেন্স পরিবর্ধিত করে হাল্কা গাড়ি পর্যন্ত), তার মধ্যেও ২০ হাজারেরও বেশি জাল। তা থেকে জরিমানা আদায় হয়েছে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা।

জেলা পরিবহণ দফতরের সদস্য গোপাল শেঠের কথায়, ‘‘দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে জাল লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’’ জেলার আঞ্চলিক পরিবহণ অধিকর্তা সিদ্ধার্থ রায় বলেন, ‘‘বহু ক্ষেত্রে গাড়িমালিক জানেন না যে তাঁর লাইসেন্সটি জাল। দালাল দিয়ে লাইসেন্স করার
এই বিপত্তি।’’

এই জেলায় ২০১৫-এ ১২ হাজার ৮৬২টি ব্যক্তিগত লাইসেন্স এবং ৬৬ হাজার ৩৫৭টি পেশাগত লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। গত বছরের জুলাইয়েই সেই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৪ হাজার ৯৮৩ ও ২৩ হাজার ১৮৫। কিন্তু পুরনো লাইসেন্স নবীকরণ করতে গিয়ে বা ট্রাফিক আইন ভেঙে ধরা পড়ার পরে লাইসেন্স পরীক্ষা করতে গিয়ে টনক নড়ে পরিবহণ কর্তাদের।

পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর, এই সব লাইসেন্স বারাসতের আঞ্চলিক পরিবহণ অফিস থেকেই নিয়ম মাফিক দেওয়া। তাতে পরিবহণ কর্তার স্বাক্ষরও যথার্থ। কিন্তু এগুলি নবীকরণ বা পরিবর্ধিত হয়েছে বেআইনি ভাবে, পরিবহণ দফতরের অজ্ঞাতসারেই।

পরিবহণ দফতরের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে হাল্কা গাড়ি, তার এক বছর পরে ভারী গাড়ি— এ ভাবে ধাপে ধাপে লাইসেন্স দেওয়া হয়। তা পরিবর্ধিত করার জন্য সমস্ত নিয়ম মেনে লাইসেন্স পেতে পেরিয়ে যায় দেড় বছর। পরিবহণ কর্তারা জানাচ্ছেন, অনেক ক্ষেত্রে গাড়ি চালানো শিখেই লাইসেন্স পেতে দালালদের শরণাপন্ন হন চালকেরা। পরীক্ষা ছাড়াই দেড়-দু’হাজার টাকার বিনিময়ে দালালরা তা পাইয়েও দেন। ফলে চালক জানতেও পারেন না যে লাইসেন্সটি জাল।

রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রতারণা এবং দালাল-দৌরাত্ম্য রুখতে নতুন কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। তিনি বলেন, ‘‘শীঘ্রই সিসিটিভি বসানো হবে পরিবহণ দফতরের বিভিন্ন অফিসে। দুর্ভোগ কমবে সাধারণের।’’