মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতো ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ কর্মসূচিতে নিয়ম না-মানা মোটরবাইক ধরতে নেমেছিল পুলিশ। হেলমেটহীন শাসকদলের কর্মীও ছাড় পাননি। আর সেই ‘অপরাধে’ মুখ্যমন্ত্রীর দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশকর্মীদের মারধর এবং সরকারি নথি ছিনিয়ে ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলায়।

শনিবার বিকেলে জীবনতলা থানার ফকির টোকিয়া বাজারে ওই অভিযান চালাচ্ছিল পুলিশ। সেই সময় সন্দেশখালির তৃণমূল কর্মী সনৎ পাত্রের মোটরবাইকও পুলিশ ধরে। পুলিশের দাবি, তাঁর হেলমেট বা মোটরবাইকের কাগজপত্র ছিল না। ‘কেস’ দিতে গেলে তিনি হম্বিতম্বি করতে থাকেন এবং ফোনে সন্দেশখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শাহাজান শেখকে ডাকেন। অভিযোগ, শাহাজান দলবল নিয়ে এসে পুলিশের উপরে চড়াও হন। এসএআই গোবিন্দ কুণ্ডু-সহ কয়েক জন পুলিশকর্মীকে মারধর করা হয় এবং সরকারি নথি ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এমনকী, সনৎকেও পুলিশের হেফাজত থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশের এক কর্তা জানান, সনৎ পাত্র-সহ কয়েক জনের নামে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া,, সরকারি কর্মীদের মারধর ও সরকারি নথি ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগে এফআইআর হয়েছে।

অভিযুক্তেরা পলাতক। শাহাজান অভিযোগ মানেননি। তাঁর দাবি, ‘‘বাইক চেকিংয়ের নামে পুলিশ সাধারণ মানুষকে হয়রান করছিল। কয়েক জন প্রতিবাদ করেন। ভিড়ের মধ্যে পুলিশের গায়ে ধাক্কা লাগতে পারে। পুলিশ মিথ্যা অভিযোগ করছে। আমরা কোনও পুলিশের গায়ে হাত দিইনি বা সরকারি নথি ছিনিয়ে নিইনি।’’

উত্তর ২৪ পরগনার তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘‘পুলিশের কাজে কোনও ভাবেই বাধা দেওয়া যাবে না। যাঁরা বাধা দেবেন তাদের প্রতি দল কঠোর হবে।’’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি জীবনতলার সরবেড়িয়া পুরাতন বাজারের কাছে কয়েকটি দুর্ঘটনায় কয়েক জন মোটরবাইক আরোহীর মৃত্যু হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ দেখে, ওই আরোহীদের কারও মাথায় হেলমেট ছিল না। এর পরেই দু’দিন ধরে ফকির টেকিয়া বাজারে ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ কর্মসূচিতে নামে। এই কর্মসূচিতে তৃণমূলের মদতে পুলিশি হয়রানির অভিযোগ তুলে রবিবার সকাল ৭টা থেকে প্রায় ৩ ঘণ্টা উত্তর ২৪ পরগনার সরবেড়িয়া নতুন বাজার এবং সংলগ্ন জীবনতলা পুরাতন বাজারে বাসন্তী হাইওয়ে অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরে জেরে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। পরে নিত্যযাত্রীদের অসন্তোষ বাড়তে দেখে অবরোধকারীরা নিজেরাই অবরোধ তুলে নেন। পুলিশ হয়রানির অভিযোগ মানেনি।