একটা ‘এফিডেবিট’ করে দেবেন?

এমন প্রশ্নের অপেক্ষাতে তো বসে থাকেন উকিলবাবু, ল’ক্লার্করা।

কিন্তু কীসের জন্য?

‘‘একটা বাচ্চা নিয়েছে আমার দিদি-জামাইবাবু। সেই বাচ্চার বাবা-মায়ের নাম বদল করে আমার দিদি-জামাইবাবুর নামটা ঢোকাতে হবে। যত খরচ হয় দেবো।’’

যুবকের প্রস্তাব শুনে ছিটকে যান আইনজীবীরা। ‘‘না না বাপু, ও সব হবে না’’— স্পষ্ট জানিয়ে দেন এক প্রবীণ আইনজীবী। অন্য একজন বলেন, ‘‘দেখছো, বাচ্চা নিয়ে এমন কাণ্ড কারখানা চলছে চতুর্দিকে...!’’

বুধবার দুপুরে এই কাণ্ড ঘটেছে বসিরহাট আদালত চত্বরে। কথায় কথায় লোক জড়ো হচ্ছে দেখে মোটর বাইক স্টার্ট করে দ্রুত এলাকা ছাড়ে ওই যুবক।

বাদুড়িয়ার বাগজোলায় ‘সোহান নার্সিংহোমে’ হানা দিয়ে সিআইডি ৩টি সদ্যোজাতকে উদ্ধারের পরে রাজ্য জুড়ে শোরগোল পড়েছে। তারই মধ্যে ওই যুবকের এ হেন চেষ্টা পুলিশের কানে ওঠায়, তারাও বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিচ্ছে।

ওই যুবক নিজেকে হাসনাবাদের বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয়। নিজের দিদি-জামাইবাবুর নাম উল্লেখ করে বলে, নিঃসন্তান দিদি-জামাইবাবু মাস তিনেক আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলার এক মহিলার শিশুকে মানুষ করার দায়িত্ব নিয়েছেন। যে হাসপাতালে ওই সন্তানের মা প্রসব করেছিলেন, সেখানকার ‘ডিসচার্জ সার্টিফিকেট’ এনেছিলেন ওই যুবক। দিদি-জামাইবাবুর ভোটার পরিচয়পত্রও ছিল তাঁর কাছে।

যুবকের প্রস্তাবে কোনও আইনজীবী রাজি না হওয়ায় ল’ক্লার্ক মিহির বাগচির দ্বারস্থ হন তিনি। এই অনৈতিক কাজ তাঁর পক্ষেও করা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন মিহিরবাবু। জোরাজুরি শুরু করে ওই যুবক। তার দাবি, ডিসচার্জ সার্টিফিকেটে বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তন করে দিতে হবে শিশুটির।

মিহিরবাবু বলেন, ‘‘ওই যুবক বলছিলেন, যত টাকা লাগে  লাগুক, কাজটা করে দিতে হবে। কিন্তু এই অনৈতিক কাজে রাজি হইনি।’’ 

বসিরহাট ফৌজদারি আদালতের বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, ‘‘শুনেছি এক যুবক এফিবেবিট করে শিশু দত্তক নেওয়ার ব্যাপারে এসেছিল। কিন্তু ব্যাপারটা এ ভাবে হয় না। আরও অনেক প্রক্রিয়া আছে। সে সব নিশ্চয়ই জানা ছিল না ওই যুবকের।

হাসনাবাদ থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।