কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন এক দম্পতি। সেখানেই বাঘের আক্রমণে মারা গেলেন মৎস্যজীবী বাচ্চু মল্লিক (৩৮)। বাড়ি পাথরপ্রতিমার জি প্লটের সত্যদাসপুরে। শুক্রবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে ঢুলিবাসানি ২ জঙ্গলের কাছে ঠাকুরান নদীর পাড়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন ভোরে ভুটভুটি করে বেরিয়েছিলেন সাত জন মৎস্যজীবী। বাড়ি থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে ঢুলিবাসানি ২ জঙ্গলের কাছে সরু খালে নৌকা ঢুকিয়ে কাঁকড়া ধরা হচ্ছিল। তখনই ঝোপের আড়াল থেকে বাঘ আসার শব্দ পান বাচ্চুবাবুর স্ত্রী। তিনি স্বামীকে সে কথা বললেও বাচ্চুবাবু আমল দেননি।

হঠাৎই খালের এক দিক থেকে নৌকোর উপরে লাফিয়ে পড়ে বাঘ। বাচ্চুবাবুর ঘাড়ে কামড় দিয়ে তাঁকে খালের অন্য প্রান্তে টেনে নিয়ে যায়। দলের অন্য মৎস্যজীবীরা লাঠি নিয়ে তাঁর পিছনে গিয়ে দেখেন, বাঘটি কিছু দূরে গিয়ে বাচ্চুবাবুকে মুখ থেকে ছেড়ে আবার নৌকোর দিকে আসছে। এ বার লাঠি হাতে তেড়ে যান সকলে। বাঘ পালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় বাচ্চুবাবুকে ইন্দ্রপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বাচ্চুবাবুর ঘাড়ে গভীর ক্ষত ছিল। প্রবল রক্তপাত এবং মেরুদণ্ড ভেঙে গিয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। জি প্লট পঞ্চায়েত প্রধান কার্তিক মাইতি জানান, বন দফতরের অনুমতি নিয়েই মৎস্যজীবীদের দলটি জঙ্গলে গিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘‘মৃতের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের জন্য আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে দরবার করব।’’