ভলিবলের পর জিমন্যাস্টিক ও ভারোত্তলনেও পদক জিতল বাংলার মেয়েরা। ‘খেলো ইন্ডিয়া স্কুল গেমস’-এ মেয়েদের আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকে সোনা এবং রুপো— দু’টি পদকই এসেছে বাংলার ঝুলিতে।

ভারোত্তলনে ৪৮ কেজি বিভাগে স্বর্ণপদক এসেছে হাওড়ায়। ৫৮ কেজি বিভাগে অবশ্য প্রতিযোগী অসুস্থ হয়ে পড়ায় সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে রুপো নিয়েই।

মেয়েদের আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিক্সে চ্যম্পিয়ন হয়েছে সোনারপুরের বিদিশা গায়েন। রানার্স হাওড়ার ব্যাতোড়ের প্রতিষ্ঠা সামন্ত। মঙ্গলবার ছিল ওই বিভাগের খেলা। প্রতিযোগীর সংখ্যা ছিল ২৪। বিদিশা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। প্রতিষ্ঠা নবম শ্রেণির ছাত্রী। জাতীয় স্কুল ক্রীড়ায় সফল হয়ে জিমন্যাস্টরা ওই প্রতিযোগিতায় নামার সুযোগ পায়, জানিয়েছেন বাংলা দলের কোচ অংশুমান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জয়প্রকাশ চক্রবর্তী।

ভারোত্তলনে মেয়েদের ৪৮ কেজি বিভাগে স্বর্ণপদক পেয়েছে হাওড়ার পাঁচলার দেউলপুরের শ্রাবণী দাস। সোমবার ৫৮ কেজি বিভাগে রুপো পেয়েছে ওই গ্রামেরই সুকর্ণা আদক। শ্রাবণী দেউলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির পড়ুয়া।

সোনা জেতার পথে মোট ১৩৪ কিলোগ্রাম ওজন তুলেছে সে। ওই বিভাগে দ্বিতীয় হয় ওড়িশার এক কিশোরী। তৃতীয় স্থান অধিকার করে তেলঙ্গানার মেয়ে।

সুকর্ণার সোনা অবশ্য হাতছাড়া হয়েছে অল্পের জন্য। মঙ্গলবার প্রতিযোগিতায় নেমেছিল সে। তার কোচ অষ্টম দাস জান‌ান, মোট ১৬৮ কিলোগ্রাম ওজন (স্ন্যাচে ৭৮ কেজি এবং জার্কে ৯০ কেজি) তোলে দেউ‌লপুর পরগনা উচ্চ বিদ্যালয়ের সুকর্ণা। স্ন্যাচে এত বেশি ওজন এর আগে কেউ তুলতে পারেনি।

প্রথম স্থানাধিকারী মহারাষ্ট্রের প্রতিযোগি অবশ্য সবমিলিয়ে সুকর্নার থেকে ১ কেজি বেশি ওজন (স্ন্যাচে ৭৫ এবং জার্কে ৯৪) তোলে। জার্কে ওজন তোলার সময় মাথা ঘুরে অচৈতন্য হয়ে পড়ে যায় সুকর্ণা। তাঁতে মাথা, গলা, হাতে চোট পায় সে। হাতের আঙুলের হাড়ে চিড় ধরে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

অষ্টমবাবু বলেন, ‘‘হাসপাতালে সুকন্যার এক্স-রে হয়। রাতের দিকে ওকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’’ তাঁর আক্ষেপ, ‘‘অসুস্থ হয়ে না পড়লে অবধারিত ভাবে সোনা পেত সুকর্ণা। আগামী ২১-২৪ ফেব্রুয়ারি বিশাখাপত্তনমে জুনিয়র ন্যাশনাল মিট আছে। আশা করছি তার আগেই ও সুস্থ হয়ে উঠবে।’’

রাজ্য বিদ্যালয় ক্রীড়া পর্ষদের যুগ্ম সম্পাদক ও খেলো-ইন্ডিয়া স্কুল গেমসে রাজ্যের কো-অর্ডিনেটর দিলীপ যাদব বলেন, ‘‘বাংলার মেয়েরা যে কোনও অংশে পিছিয়ে নেই, তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। ভলিবল, জিমন্যাস্টিক্স এবং ভারোত্তলনে রীতিমতো দাপট দেখিয়েছে আমাদের মেয়েরা।’’