মুখে মুখে গান বানিয়ে ফেলেন তিনি। জঙ্গলমহলের প্রকৃতি, আদিবাসী-মূলবাসীদের জীবনযন্ত্রণা, হাসি, কান্না, এমনকী ঝাড়গ্রামের পর্যটন সম্ভাবনা— কিছুই বাদ পড়ে না স্বভাব কবির সুরে। গোপীবল্লভপুরের চঞ্চলকুমার দাস সেই ঝাড়গ্রামকে সামনে রেখেই দিল্লি গিয়ে মনোনয়ন জমা দিয়ে এসেছেন, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য।

উপযুক্ত নথির অভাবে আবেদন অবশ্য খারিজ হয়ে গিয়েছে। তাতে দুঃখ নেই চঞ্চলবাবুর। বরং তিনি ফের দিল্লি যেতে চান। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে গেলে, তাঁকে গান শুনিয়ে আসবেন। কারণ একটাই, ঝাড়গ্রামের নামটা রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছে দেওয়া। তাঁর কথায়, “ঝাড়গ্রাম রাজ্যের ২২ তম জেলা। পিছিয়ে পড়া এলাকা, ভারীশিল্প নেই। সারা বছর এখানে পর্যটকরা এলে স্থানীয় আদিবাসী-মূলবাসী মানুষগুলির আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে। সেটাই আমার লক্ষ্য।’’

ঘরবন্দি জীবনে কোনও দিনই আগ্রহী নন চঞ্চল দাস। সংসার সামলান স্ত্রী সুলতাদেবী, পারিবারিক ব্যবসা সামলান ভাইয়েরা। একমাত্র ছেলে আইনের ছাত্র। আর চঞ্চলবাবু সারাদিন গান গেয়ে বেড়ান, নাটক, কবিতা লেখেন। মুখে মুখে গান বাঁধার জন্য রাজ্য সরকারের লোকপ্রসার প্রকল্পের নথিভুক্ত শিল্পীর তালিকায় নাম উঠেছে তাঁর। কখনও বিজ্ঞাপন সংস্থায় স্লোগান লিখে কিছু রোজগার হয়। তারপর তিনি বেরিয়ে প়ড়েন দুঃস্থদের সাহায্য করতে। বেশ কয়েক বছর আগে এক দুর্ঘটনায় বাঁ হাতের জোর খুইয়েছেন, তবু মনের জোর হারাননি। ঝাড়গ্রাম জেলা হওয়ার পর উন্নতি ও পর্যটন প্রসারের আবেদন রেখে অজস্র গান লিখে ফেলেছেন চঞ্চলবাবু।

তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দাখিলে উৎসাহিত করেছিলেন ঝাড়গ্রাম আদালতের আইনজীবী কৌশিক সিংহ। কৌশিকবাবু বলেন, “চঞ্চলবাবু সংবেদনশীল মানুষ। ঝাড়গ্রামে পর্যটনশিল্পের বিকাশ চেয়ে সারা দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করাটাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল।’’ আর তাঁর খেয়ালখুশির হিসাব রাখেন যিনি, সেই সুলতাদেবী বলেন, “স্বামী সমাজসেবা করে বেড়ান। ওঁর খেয়ালে যদি ঝাড়গ্রামের ভাল হয়, ভালই তো।”