চাকরির পরীক্ষার আবেদন, বা সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য ফর্ম তোলা, এমনকী স্পোকেন ইংলিশ শেখার ব্যবস্থা- সবই এক ছাতার তলায়। আর সেই কাজ করতে জেলার গ্রামীণ গ্রন্থাগারে কম্পিউটার বসিয়ে ও ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে উদ্যোগী হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক রশ্মি কমল বলেন, ‘‘গ্রামীণ এলাকার ছাত্র-ছাত্রী, চাকরির জন্য আবেদনকারীদের সুবিধার জন্য জেলার প্রতিটি গ্রামীণ গ্রন্থাগারকে ই- কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফলে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদন সাধারণ বাসিন্দাদের কাছে অনেক সহজ হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেতে রাজ্য গ্রন্থাগার দফতরের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’’

জেলা প্রশাসন ও গ্রন্থাগার দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ১২১ টি গ্রামীণ গ্রন্থাগার রয়েছে। এদের বেশীরভাগই জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায়। বই পড়ার আগ্রহ কমার ফলে অধিকাংশ গ্রন্থাগার ধুঁকছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রন্থাগারগুলিতে সকলের কাছে অনলাইন পদ্ধতি ব্যবহারের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা প্রশাসন। গ্রামীণ গ্রন্থাগারগুলির বর্তমান পরিকাঠামো-সহ বিভিন্ন বিষয়গুলি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের আধিকারিক ও গ্রন্থাগার দফতরের আধিকারিকরা যৌথভাবে গ্রামীণ গ্রন্থাগারগুলি পরিদর্শন করেছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামীণ গ্রন্থাগারগুলিতে কম্পিউটার বসানোর পাশাপাশি সেখানে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হবে। এছাড়াও স্ক্যানার, প্রিন্টার দেওয়া হবে অনলাইন পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরনের ফর্ম ডাউনলোডের জন্য। প্রতিটি গ্রামীণ গ্রন্থাগারে চারটি করে কম্পিউটার দেওয়া হবে। প্রতি গ্রন্থাগারে একজন করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি থাকবেন। স্পোকেন ইংলিশ শেখানোর ব্যবস্থা করা হবে। সব মিলিয়ে গ্রামীণ গ্রন্থগারগুলিকে কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ গ্রন্থাগারগুলিতে পাঠক সংখ্যা বাড়বে বলেই আশা প্রশাসনের।