কুপ্রস্তাবে রাজি হয়নি শ্যালিকা। সেই আক্রোশে তাঁর দু’বছরের শিশুপুত্রের উপরে কার্বলিক অ্যাসিড ছুড়ে মারার অভিযোগ উঠল জামাইবাবুর বিরুদ্ধে।

গত বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রামের হরিপুরের ওই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত রবিশঙ্কর মাইতিকে আটক করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে আগেও একাধিকবার এলাকার শিশুদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার হরিপুরে নিজের শিশুপুত্রের সঙ্গে জামাইবাবু রবিশঙ্করের বাড়িতে যান ওই মহিলা। তিনি নয়নানের বাসিন্দা। অভিযোগ, রবিশঙ্কর ওই মহিলার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়। তাতে রাজি না হওয়ায় সে মহিলার পুত্রের গায়ে অ্যাসিড ছুড়ে মারে। শিশুটির কানে অ্যাসিড লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে তমলুক জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।  

ঘটনার পরে গ্রামবাসীদের একাংশ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকী, সালিশি সভাও করেন গ্রামের মাতব্বরেরা। হরিপুর গ্রামের কাছেই নন্দীগ্রাম থানা। ঘটনার খবর পৌঁছয় সেখানে। এর পরেই পুলিশ গ্রামে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, আক্রান্তের পরিবার এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে ওই মহিলা মৌখিক বয়না দিয়েছেন। তার ভিত্তিতে অভিযুক্ত রবিশঙ্করকে আটক করা হয়েছে। 

হলদিয়ার অতিরিক্ত পুলিস সুপার কাজি সামসুদ্দিন আহমেদ এ  ব্যাপারে বলেন, ‘‘শিশু মায়ের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’’ এ প্রসঙ্গে নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের বিডিও সুব্রত মল্লিক বলেন, ‘‘ঘটনার খোঁজ নিয়ে দেখছি।’’

থানায় লিখিত অভিযোগ প্রসঙ্গে হরিপুর পঞ্চায়েতের উপ প্রধান মেঘনাদ পাল বলেন, ‘‘কোনও কারণে পরিবারটি অভিযোগটি দায়ের করতে ভয় পাচ্ছে। আমরা ওঁদের গিয়ে অবিযোগ দায়ের করার জন্য বোঝাচ্ছি।’’