সকাল ১১টার পরে রাস্তা ও ভ্যাটে আবর্জনা ফেলা যাবে না বলে আগেই নির্দেশিকা জারি করেছে খড়্গপুর পুরসভা। জঞ্জাল সমস্যা মেটাতে এ বার রেলশহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে আবর্জনা ফেলার আধুনিক গাড়ি নামাবে পুরসভা। ইতিমধ্যেই বোর্ড মিটিংয়ে এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আপাতত দু’টি গাড়ি পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হবে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে। তারপরে ধাপে ধাপে শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডেই এি গাড়ি নামানো হবে বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে।

 পুরসভা সূত্রে খবর, আকারে ছোট টোটোর মতো দেখতে ব্যাটারি চালিত এই গাড়ি সহজেই শহরের গলিপথে চলাচল করতে পারবে। মূলত শহরের গলিপথে পড়ে থাকা আবর্জনা তুলে ভ্যাটে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই ব্যাটারি চালিত গাড়ি ব্যবহার করা হবে। ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বেলা ১১টা পর্যন্ত বাড়ি-বাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করার কাজও এর ফলে অনেক সহজ হবে। বাড়ানো যাবে আবর্জনা পরিষ্কারের কাজের গতিও। প্রতিটি গাড়ির দাম পড়বে প্রায় ১ লক্ষ ৬৯ হাজার টাকা।

খড়্গপুর শহরে আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য এতদিন হাতে টানা গাড়িই ছিল সাফাইকর্মীদের ভরসা। এখনও হাতে টানা গাড়ি ব্যবহার করেই আবর্জনা সাফাই করেন সাফাইকর্মীরা। তবে হাতে টানা গাড়ি ব্যবহারে আবর্জনা পরিষ্কারে বেশি পরিশ্রম হওয়ায় সাফাইকর্মীদেরও কাজে অনীহা বাড়ছিল বলে অভিযোগ। এমনকী হাতে টানা গাড়ি বেশি দূরে নিয়ে গিয়ে আবর্জনা ফেলার কাজেও সমস্যা হচ্ছিল। ফলে অনেক সময়ে ওয়ার্ডেই ফাঁকা জায়গা পেলে সেখানেই গাড়ির আবর্জনা ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠছিল। ব্যাটারি চালিত ছোট গাড়িতে একসঙ্গে প্রায় ৪ টন আবর্জনা অনায়াসে বহু দূর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যাবে। কম হবে পরিশ্রমও। ভ্যাটে আবর্জনা ফেলার কাজে বেলচার বদলে হাইড্রোলিক পদ্ধতিতে উল্টে দেওয়া যাবে ছোট ওই ডাম্পার। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ কুণ্ডু বলেন, “আমার ওয়ার্ডে এখন যে লোহার হাতে টানা গাড়ি রয়েছে সেগুলির অবস্থা একেবারে জীর্ণ। ব্যবহারের অযোগ্য ওই গাড়ি নিয়েই আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ করতে হয়। তাই পুরসভা যদি ওই ব্যাটারি চালিত আবর্জনা বহনের গাড়ি দেয় খুব উপকার হবে।”

 তবে বড় ওয়ার্ডে একটি গাড়ি নিয়ে আবর্জনা সমস্যার মোকাবিলা করা যাবে কি না তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন অনেক কাউন্সিলর। ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম কাউন্সিলর স্মৃতিকণা দেবনাথ বলেন, “আমাদের কাছে মাত্র দু’টি হাতে টানা গাড়ি রয়েছে। সেই দু’টি গাড়ি দিয়ে এত বড় ওয়ার্ডে প্রতিদিন আবর্জনা সাফাই করা যায় না। তাই ব্যাটারি চালিত ওই গাড়ি পেলে খুব সুবিধা হবে। তবে এত বড় ওয়ার্ডে দু’টি গাড়ি প্রয়োজন।” অনেক ওয়ার্ডে সাফাইকর্মী কম রয়েছেন। ফলে সেই সব ওয়ার্ডে ব্যাটারি চালিত ডাম্পার গাড়ি কারা রক্ষণাবেক্ষণ করবেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর প্রাক্তন উপ-পুরপ্রধান চিত্তরঞ্জন মণ্ডল বলেন, “পুরসভার এই উদ্যোগ ভাল। তবে আমার ওয়ার্ডে ওই গাড়ি রাখার মতো জায়গা নেই। রাস্তার ধারে এই গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলেও লোক যাতায়াত করতে পারবেন না। ব্যাটারি চালিত এই ডাম্পারের রক্ষণাবেক্ষণ কীভাবে হবে সেটাও ভাবনার বিষয়।”

এ বিষয়ে খড়্গপুরের পুরপ্রধান প্রদীপ সরকার বলেন, “মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্পে আমরা আপাতত শহরের রাস্তায়  দু’টি ব্যাটারি চালিত ডাম্পার নামাচ্ছি। পরীক্ষামূলকভাবে এই দু’টি গাড়ি চালানো হবে। পরে ৩৫টি ওয়ার্ডেই এই গাড়ি দেওয়া হবে।’’ তাঁর কথায়, ‘‘এই গাড়ি গলিপথেও সহজে আবর্জনা সংগ্রহ করে বড় ভ্যাটে এনে ফেলা যাবে। ভ্যাট থেকে পুরসভার বড় গাড়ি আবর্জনা তুলে নিয়ে যাবে। আশা করছি, এই গাড়ি ব্যবহার হলে শহরও আরও পরিষ্কার থাকবে।”