সিডনি থেকে ই-মেল মারফত কেশপুরের যুবকের মৃতদেহের ছবি পেয়েছেন পরিজনেরা। বৃহস্পতিবার এই ছবি পাঠানো হয়েছে। মৃতদেহের ছবি দেখে খুনেরই আশঙ্কা করছেন চিরঞ্জীব হাজরার পরিজনেরা। পরিজনেদের দাবি, মৃতদেহে একাধিক দাগ রয়েছে। এই মৃত্যুর পিছনে নিশ্চিত ভাবেই রহস্য রয়েছে। সঠিক তদন্ত হলে রহস্যের জাল ছিঁড়তে পারে। সিডনিতে মারা গিয়েছেন চিরঞ্জীব হাজরা। চিরঞ্জীবের ভাগ্নে অভীক সামন্ত বলেন, “এই মৃত্যুর পিছনে রহস্য রয়েছে। বৃহস্পতিবার ই-মেল মারফত মৃতদেহের ছবি এসেছে। ছবি দেখে খুনেরই আশঙ্কা হচ্ছে।” তাঁর কথায়, “যে কোনও শর্তে দেহ ফেরত চাই। প্রশাসনকে বারবার তাই জানিয়েছি। বুধবারও মেদিনীপুরে গিয়ে একই আর্জি জানানো হয়েছে। দেখি কী হয়।”

দেহ ফেরতের কোনও বার্তা অবশ্য বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাননি পরিজনেরা। অভীক বলেন, “নতুন করে কিছু জানানো হয়নি।” বছর তিরিশের চিরঞ্জীবের বাড়ি কেশপুরের নেড়াদেউলে। সিডনিতে ওই যুবকের রহস্যমৃত্যু হয়েছে। চাকরিসূত্রে তিনি সিডনিতে থাকতেন। উচ্চ মাধ্যমিকের পরে বিবিএ পড়তে বেঙ্গালুরুতে যান। পরে এমবিএ পড়তে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে যান। এমবিএ করার পরে তিনি সিডনিতে এক সংস্থায় চাকরি পেয়ে যান। কয়েকজন মিলে একটি রেস্তোরাঁও খোলেন। ২৬ জানুয়ারি থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না পরিজনেরা। খোঁজ পেতে পরিজনেরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। প্রশাসনিক সূত্রে ৩০ জানুয়ারি পরিজনেরা জানতে পারেন, সিডনিতে চিরঞ্জীবের মৃত্যু হয়েছে। ২৯ জানুয়ারি তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। দেহ ফেরানোর চেষ্টা শুরু করেন পরিজনেরা। গত সোমবার সিডনি থেকে পরিজনেদের জানিয়ে দেওয়া হয় যে দেহ ফেরত পাঠানো যাবে না। কারণ হিসেবে জানানো হয় যে, ইতিমধ্যে দেহে পচন ধরতে শুরু করেছে। পরিজনেরা অবশ্য সিডনিতে মৃতদেহ দাহ করার অনুমতি দেননি।