দোরগোড়ায় শীত। আর মাসখানেকের মধ্যে শুরু হয়ে যাবে পর্যটনের ভরা মরসুম।

নাগরিক ও পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে তার আগে ‘গ্রিন সিটি’ প্রকল্পের আওতায় ২৬টি জনবহুল ও ব্যস্ততম মোড় এবং লালবাগের প্রতিটি হোটেলে লালবাগের প্রতিটি হোটেলে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুর্শিদাবাদ পুরসভা। প্রতিটি হোটেলে লিখিত পাঠানো হচ্ছে।

মুর্শিদাবাদ পুর এলাকায় ৫৬টি হোটেল রয়েছে, যারা পুরসভার কাছ থেকে ‘ট্রেড লাইসেন্স’ নিয়ে হোটেল করেছে। পুরপ্রধান বিপ্লব চক্রবর্তী জানান, লালবাগের বিভিন্ন হোটেলে যে ভাবে অসামাজিক কাজকর্ম বাড়ছে তাতে আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। তাই কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রতিটি হোটেলে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে হবে। কেউ নির্দেশ অমান্য করলে লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হবে।’’

আর এক বড় পর্যটনকেন্দ্র মায়াপুর এই রাস্তা আগেই নিয়েছে। কিছু দিন আগেও একই রকম মাথাব্যথা ছিল মায়াপুরেও। বছর দুই আগে দোলের ছুটিটা মায়াপুরে কাটাবেন বলে হঠাৎ ঠিক করেন কলকাতার চার তরুণ। ইস্কন মন্দিরের কাছাকাছি কোনও হোটেলে থাকার ইচ্ছে নিয়ে স্থানীয় এক পরিচিতকে ফোন করতেই তিনি সটান বলে দেন, ‘ওই সব হোটেলে রাত কাটানো ভুলেও নয়!’ নানা অসামাজিক কাজের আখড়া ওই সব হোটেলে ছাপোষা লোকজন জেনে-বুঝে উঠতে চাইতেন না। ইস্কন বা অন্য কোনও মঠ-মন্দিরের অতিথি আবাসে জায়গা না পেলে সারা দিন ঘুরে রাতে ফিরে যেতেন অনেকেই।

পরিস্থিতি বুঝে বেশির ভাগ হোটেলে সিসিটিভি বসানোর নির্দেশ দেয় প্রশাসন। অন্দরসজ্জাও ঢেলে সাজতে বলা হয়েছিল। ঘর ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে পরিচয়পত্র। মাঝেমাঝে হানা দেয় পুলিশও। তার ফলে অবস্থা  পাল্টেছে বলে দাবি ফেডারেশন অফ বেঙ্গল হোটেলিয়ার্সের রাজ্য সম্পাদক প্রসেনজিৎ সরকারের। তাঁর কথায়, “সামান্য কিছু হোটেল এখনও পুরনো বদভ্যেস বজায় রেখেছে। তবে সেটা বড় জোর দশ শতাংশ।”

লালবাগে অবশ্য বড় ধাক্কাটা দিয়েছে একটা খুন। গত ৫ নভেম্বর হোটেলে খুন হন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য। দু’দিন হোটেলের ঘরে পড়েছিল দেহ। এর পরেই নড়েচড়ে বসেন কর্তৃপক্ষ। সোমবার কাউন্সিলরদের বৈঠকে হোটেলগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। পুরপ্রধান বলেন, ‘‘আশা করছি, গ্রিন সিটি প্রকল্পের আওতায় পর্যটন মরসুমের মাঝেই ওই কাজ শেষ হয়ে যাবে।’’ হোটেল মালিক আশিস রক্ষিত মনে করছেন, ‘‘এই পদক্ষেপ আরও আগেই জরুরি ছিল। এতে বিভিন্ন হোটেলে অসামাজিক কাজকর্ম বন্ধ হবে। তাতে বহিরাগত পর্যটকেরা স্বচ্ছন্দবোধ করবেন।’’ লালবাগ পর্যটন সহায়তা কেন্দ্রের কর্ণধার স্বপন ভট্টাচার্যের মতে, চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যায় পর্যটন মরসুমে। অনেক সময়ে বহিরাগত পর্যটকেরা অভিযোগও জানান। এখন জনবহুল মোড়গুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসলে তা অনেকটাই কমবে। যানজটও রোখা যাবে।

ঘটনা হল, পুলিশ ও শাসক দলের নেতাদের একাংশের মদতেই বিভিন্ন হোটেলে অসামাজিক কাজকর্ম চলে বলে অভিযোগ। সেখানে পুরসভার এই উদ্যোগ কতটা ফলপ্রসূ হবে? পুরপ্রধান জানান, তাঁরাও নানা রকম অভিযোগ শুনেছেন। সিসিটিভি ক্যামেরায় নজরদারি চালানোর জন্য চার জন কাউন্সিলরের নেতৃত্বে একটি কমিটি গড়া হচ্ছে জানিয়ে পুরপ্রধান বলেন, ‘‘অ্যাপের মাধ্যমে মোবাইল থেকেই নজরদারি চালানো হবে।’’