দার্জিলিঙের জেলাশাসক জয়সী দাশগুপ্তকে উত্তরবঙ্গের ‘ভারতী ঘোষ’ বলে কটাক্ষ করলেন সিপিএম নেতারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শিলিগুড়ির দলীয় দফতরে বসে মেয়র অশোক ভট্টাচার্য, জেলা সম্পাদক জীবেশ সরকার জেলাশাসককে অনভিজ্ঞ, অল্পবয়সী বলার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে পক্ষপাতদুষ্টও বলেছেন। গত এক মাস ধরে সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদ তহবিলের ১ কোটি টাকা নিয়ে মেয়রের সঙ্গে জেলাশাসকের টানাপড়েন শুরু হয়েছে। এ দিন হুমকির সুরে অশোকবাবু, জীবেশবাবুরা বলেছেন, ‘‘জেলাশাসক তো উত্তরের ভারতী ঘোষ। উনি রাজনীতি করে চলেছে। উনি ভুলে যাচ্ছেন, এ সরকার চিরদিন থাকবে না। ওঁকেও এখনও অনেকদিন কাজ করতে হবে।’’

সম্প্রতি ঋতব্রত শহরের ডাম্পিং গ্রাউন্ডের ভিতরে রাস্তা তৈরির জন্য পুরসভাকে তহবিল থেকে ১ কোটি টাকা দেন। জেলাশাসক তা আটকে দেন। তিনি প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাংসদকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করে বলেছেন। জেলাশাসকের যুক্তি, সাংসদের টাকায় শহরবাসীর কাজে আসবে এমন প্রকল্প হোক। সেখানে পুরসভা নোংরা, আবর্জনার ভিতর ১ কোটি টাকা দিয়ে রাস্তা, ফুটপাত করতে চায়। সেখানে কি কেউ হাঁটতে যাবে! বরং উনি সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের জন্য টাকা দিতে পারেন। আমি সাংসদকে চিঠি দিয়ে তাই বলেছি। এ ছাড়াও পূর্ত দফতরের জমিতে ক্লাবঘর করতে দিইনি। বাকি অন্য প্রকল্পের টাকা দিয়ে দিয়েছি।

এখানেই তাঁর সঙ্গে বিরোধ মেয়রের। অশোকবাবু জানান, ডাম্পিং গ্রাউন্ডের ভিতর রাস্তা তো শহরবাসীর জন্যই। পুরকর্মীরা সেখানে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারবেন। গাড়ি ঠিকঠাক ঢুকবে। তা না জেলাশাসক কী প্রকল্প হবে তা ঠিক করে দিচ্ছেন। পুরোটাই ওঁর এক্তিয়ারের বাইরে। তাঁর কথায়, ‘‘অল্পবয়সী তো। মুখ্যমন্ত্রীকে খুশি করতে উনি এসব করছেন। ভারতীদেবীর পরিণতি কী হয়েছে, উনি তো তা ভুলে গিয়েছেন।’’

জেলাশাসক অবশ্য সিপিএমের অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেননি।