তিনি তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের চেয়ারম্যান পারিষদ। এ বার সেই সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের মুখেই ডেঙ্গি উপসর্গের কথা। ফলে জলপাইগুড়ি শহরে এখন জোর বিতর্ক। জেলা স্বাস্থ্যকর্তা থেকে শুরু করে শহরের অন্য পুরকর্তারা নেমে পড়েছেন এই দাবি খণ্ডন করতে। যদিও সৈকতবাবু নিজের অবস্থানে অনড়।

সৈকতবাবু এ দিন জানান, জলপাইগুড়ি শহরে প্রতিদিনই গড়ে একজন করে জ্বরে আক্রান্ত রোগী ডেঙ্গির উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন নার্সিংহোমে ভর্তি হচ্ছেন৷ তাঁর দাবি, জেলা স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্টে শহরে ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ বলা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ডেঙ্গির উপসর্গ বা এনএস-১ পজিটিভ নিয়ে এখন পর্যন্ত শহরের শতাধিক মানুষ বিভিন্ন নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছেন৷

জেলা স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট অবশ্য বলছে, জেলায় ব্যাপক হারে ডেঙ্গি ছড়ালেও শহরে ততটা সংক্রমণ হয়নি। সরকারি হিসেব মতোই জেলায় এ বারে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ছ’শো। সেখানে শহরে মেরেকেটে ৪০ জন। এই তথ্যের বিরোধিতাই শুধু নয়, এ দিন জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের লোকজন নিয়ে শহরে ফগিং এবং স্প্রে করার কাজেও নামেন সৈকত। তাঁর দাবি, এটা সাংগঠনিক কর্মসূচি হলেও, পুরসভাও জলপাইগুড়ি শহরে ডেঙ্গি প্রতিরোধে যথেষ্ট তৎপর।

যদিও ডেঙ্গি নিয়ে সৈকতের দেওয়া হিসেব মানতে চাননি জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা৷ পুরসভার চেয়ারম্যান মোহন বসু বলেন, ‘‘যেখানে স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট বলছে জলপাইগুড়ি শহরে সে অর্থে ডেঙ্গি ছড়ায়নি, সেখানে এটা নিয়ে আর কী বলব! উনি (সৈকত) কোনও সূত্রে এমন খবর পেতে পারেন৷ আমার তা জানা নেই৷’’

জলপাইগুড়ি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জগন্নাথ সরকার বলেন, ‘‘জ্বর নিয়ে কেউ ভর্তি হল মানেই যে তিনি ডেঙ্গিতে আক্রান্ত, সেটা মনে করা ঠিক নয়৷ একমাত্র ম্যাক অ্যালাইজা পরীক্ষায় যাঁদের এই রোগ ধরা পড়ছে, তাঁরাই ডেঙ্গিতে আক্রান্ত৷’’ তাঁর আরও দাবি, ‘‘এর বাইরে জলপাইগুড়ি শহরে যাঁরা জ্বর নিয়ে নার্সিংহোম বা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, তারা সুস্থও হয়ে উঠছেন৷’’