এ বছর এখনও পরিস্থিতি সামলে ওঠা যায়নি। তার উপর আগাম ব্যবস্থা না-নিলে আগামী বছর ডেঙ্গি আরও মারাত্মক আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা জেলা স্বাস্থ্য দফতর এবং শিলিগুড়ি পুর কর্তৃপক্ষের।

পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গি প্রতিরোধের কাজ তো চলবেই। আগামী বছর জানুয়ারির শেষ বা ফেব্রুয়ারি থেকেই মশা এবং লার্ভা মারতে স্প্রে, ফগিং শুরু করতে পরিকল্পনা করছে পুরসভা। বিশেষজ্ঞদের কয়েকজন জানান, শীতে নিকাশি বা বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা জল শুকিয়ে গেলে সেখান থাকা ডেঙ্গির বাহক মশার ডিম ফুটবে না। বা শীতে তাপপাত্রা কমে গেলেও ডিম ফুটে লার্ভা জন্মাবে না। কিন্তু শুকনো অবস্থায় তা দেড় থেকে দু’বছর থাকতে পারে। পরের বছর বর্ষার জল পেলে, উপযুক্ত তাপমাত্রা পেলে ওই ডিম ফুটে মশা জন্মাবে। ডেঙ্গির জীবাণুবাহক মশা যত ডিম দেবে এবং তা থেকে যত মশা জন্মাবে সমস্তই ডেঙ্গির জীবাণুর বাহক হবে। সেটাই আগামী বছরের জন্য ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছে।

বিষয়টি নিয়ে ১৬ নভেম্বর বৈঠক ডেকেছেন মেয়র অশোক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘‘এ বছর থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী বছর শুরু থেকেই ডেঙ্গি প্রতিরোধের কাজে নামতে চাই। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নেওয়া হবে।’’

জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকেরাও বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রলয় আচার্য বলেন, ‘‘ট্রান্স ওভারিয়ান ট্রন্সমিশন’ পদ্ধতিতে ডিমের মধ্য দিয়েই ডেঙ্গির ভাইরাস নতুন জন্মানো মশাতেও ছড়িয়ে যায়। এডিস মশার ডিম শুকনো অবস্থায় দুই বছরের মতো থাকতে পারে। তার পরেও উপুযুক্ত পরিবেশ পেলে তা ফুটে মশা জন্মাতে পারে। ওই মশা কাউকে কামড়ালেও তাঁরও ডেঙ্গির সংক্রমণ ঘটবে। বিষয়টি সে কারণে উদ্বেগের।’’

তিনি জানান, তাঁরাও আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার কথাই বলছেন। সারা বছর ধরেই প্রয়োজনে রোগ প্রতিরোধে কাজ করতে হবে বলে মনে করেন শিলিগুড়ির একটি নার্সিংহোমের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শঙ্খ সেন। তাঁর দাবি, ‘‘এখন থেকেই যদি রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা লাগাতার না চলে তা হলে আগামী বছর পরিস্থিতি আরও মারাত্মক হতে পারে।’’ 

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ঠান্ডা পড়তে শুরু করায় ডেঙ্গির সংক্রমণ কিছুটা হলেও কমছে। তবে এখনও ডেঙ্গির উপসর্গ নিয়ে অনেকেই আসছেন। এ দিন সকালে বেশ কিছু রোগীকে ছুটি দিলে মেডিসিন বিভাগের করিডরে কাউকে দেখা যায়নি।

তবে প্লেটলেট সংখ্যা কমে যাওয়ায় এক রোগী কাজল সরকারকে এদিন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে রেফার করা হয়। তাঁর ভাই সজল সরকারও জ্বর, ডেঙ্গির উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি। ডেঙ্গির উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন আরও অনেকে। তাই এখনই নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা।