পরিবর্তন এসেছে পাহাড়ে৷ পরিবর্তন হয়েছে মোর্চার অন্দরেও৷ আর এ বার সেই পরিবর্তনের ছোয়া ‘বলিদান দিবস’-এর কর্মসূচিতেও৷

২০১১ সালে পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে পাহাড় থেকে ডুয়ার্স পর্যন্ত পদযাত্রার কর্মসূচি নিয়েছিল মোর্চা৷ তখন নেতা বিমল গুরুঙ্গ। সেই সময় নাগরাকাটার শিপচুতে পুলিশের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ান মোর্চা সমর্থকদের একাংশ৷ ৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে মারা যান তিন মোর্চা সমর্থক৷ তারপর থেকেই প্রতি বছর এই দিনটিতে শিপচুতে বলিদান দিবস পালন করে আসছে মোর্চা৷

প্রতি বছরই এই দিনে শিপচুর ‘বলিদান পার্ক’-এ পুলিশের গুলিতে নিহতদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি পুজো-পাঠ ও যজ্ঞের আয়োজন করা হয়৷ সেই সঙ্গে বলিদান পার্ক লাগোয়া মাঠে হয় জনসভা৷ এত দিন পর্যন্ত যার প্রধান বক্তা ছিলেন খোদ বিমল গুরুঙ্গ৷

কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে৷ এ বারই প্রথম গুরুঙ্গহীন মোর্চা শিপচুতে বলিদান দিবস পালন করবে৷ স্বাভাবিক ভাবেই পরিবর্তন আসছে তাদের কর্মসূচিতেও৷

বুধবার বিনয় তামাঙ্গ সাফ জানিয়ে দেন, “বলিদান দিবসকে ঘিরে আমরা কোনও ‘রাজনীতি’ চাই না৷ তাই এবার কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে৷”

কিন্তু কী সেই পরিবর্তন? বুধবার দার্জিলিং থেকে বিনয় তামাঙ্গ জানান, বৃহস্পতিবার শিপচুতে শহিদদের শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানোর পাশাপাশি পুজো পাঠ হবে৷ কিন্তু বিমল গুরুঙ্গ যে ভাবে প্রতিবার এই দিনটিতে সভা করেন তা আর এ বার হবে না৷ তাঁর কথায়, ‘‘শিপচুতে আমাদের ভাই-বোনরা মারা গিয়েছেন৷ কিন্তু বিমল গুরুঙ্গ সেখানে শ্রদ্ধা জানানোর নামে সভা করে রাজনীতি করতেন৷ আমরা সেটা চাই না৷ তাই এই পরিবর্তন৷’’

তবে পাহাড়ে মুখ্যমন্ত্রী থাকায় বিনয় তামাঙ্গ কিংবা অনীত থাপাদের কেউই এবারের বলিদান দিবসে শিপচুতে আসতে পারছেন না৷ তামাঙ্গ জানান, ‘‘বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে৷ তাই আমরা যেতে পারব না৷ তবে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা ওখানে যাবেন৷’’

এই অবস্থায় গুরুঙ্গহীন মোর্চার এ বারের বলিদান দিবসের কর্মসূচির আকার যে খানিকটা ছোট হবে, তা স্পষ্ট মোর্চা নেতাদের কথাতেই৷ তবে মোর্চার এই কর্মসূচিকে ঘিরে নিরাপত্তার কোনও ফাঁকফোকর রাখতে চাইছে না জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ৷ জেলার পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি বলেন, বৃহস্পতিবার মোর্চার কর্মসূচিকে ঘিরে নিরাপত্তার সমস্ত ব্যবস্থাই শিপচুতে থাকবে৷