কাজুবরফি, বেসনের লাড্ডুর চাহিদা যাই হোক না কেন দিনে অন্তত হাজারখানেক রসগোল্লা বিক্রি বাঁধা। শিলিগুড়ির ব্যস্ততম হিলকার্ট রোডের ধারে পুরনো মিষ্টির দোকান। অবাঙালি মালিকের এই দোকানে শুকনো মিষ্টির সম্ভারই বেশি। দোকানের কর্ণধারের অবশ্য দাবি রসগোল্লা অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

ওড়িশাকে হারিয়ে বাংলা রসগোল্লার জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার খবর শুনে নিজের অভিজ্ঞতা শোনালেন দোকানের কর্ণধার বাবুলি গোয়েল। মাঝেমধ্যেই গুজরাত-মহারাষ্ট্র থেকে আসা দার্জিলিং ফেরত পর্যটকদের দল দোকানে আসেন। তাঁদের প্রধান আবদার থাকে, রসগোল্লা চেখে দেখার। এরপর প্যাকেটে করে নিয়ে যাননি এমন পর্যটকের কথা বাবলুবাবু মনে করতে পারলেন না।

বাবলুবাবুর কথায়, ‘‘দু’দশকের বেশি সময় ধরে দোকান সামলাচ্ছি। রসগোল্লার চাহিদা বদলায়নি। উল্টে বেড়েছে। আমরা অন্তত দশ রকমের রসগোল্লা তৈরি করি।’’ বাবলুবাবুর কথায়, ‘‘রসগোল্লাকে বাংলার থেকে আলাদা করে যাবে না। এই রাজ্যে থাকা অন্যান্য ভাষাভাষীর বাসিন্দারাও রসগোল্লায় মজেছেন।’’

ওই দোকানের পাশেই রেস্তোরার কর্ণধার অমৃত পালসিং বলেন, ‘‘আমরা পাঞ্জাবে গেলে আত্মীয়দের জন্য রসগোল্লাই নিয়ে যাই।’’ জলপাইগুড়ির শান্তিপাড়ার একটি মিষ্টির দোকানে এ দিন থেকে গুড়ের রসগোল্লা বিক্রি শুরু হল। সৌজন্যে বাংলার জয়। মিষ্টি ব্যবসায়ী অনাদি দত্তের কথায়, ‘‘ভেবেছিলাম দু’একদিন পরে গুড়ের রসগোল্লা বানাবো। আজকে খবর শুনে এতটাই ভাল লাগছে যে কয়েকটি গুড়ের রসগোল্লা আজ থেকেই বানানো শুরু করলাম।’’ কদমতলার একটি জনপ্রিয় দোকানের রাজা পাল বললেন, ‘‘দুপুর থেকে টিভি চ্যানেল, পোর্টালে রসগোল্লার ছড়াছড়ি। তখনই বুঝেছিলাম চাহিদা বাড়বে। তাই বেশি রসগোল্লা বানাই।’’

শহরের বেশ কিছু দোকানে ‘সুগার ফ্রি’ রসগোল্লাও মিলছে। কাজেই আট থেকে আশি কাউকেই রসগোল্লার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হতে হবে না বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। শহরের ৩ নম্বর ঘুমটি এলাকার মিষ্টি ব্যবসায়ী রাজীব সরকারের কথায়, ‘‘নানা ধরণের মিষ্টি তৈরি করি৷ কিন্তু রসগোল্লার বিক্রির কাছে তা কিছুই নয়।’’