মোটরবাইক নিয়ে পালাতে গিয়ে গ্রেফতার হলেন ছাত্রীর আত্মহত্যায় অভিযুক্ত গৃহশিক্ষক সুজন মণ্ডল। বুধবার বিকেলে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট থানার ঠাকুরপুড়া এলাকার ঘটনা। এদিন বালুরঘাট থানার আইসি সঞ্জয় ঘোষ তাঁকে তাড়া করে ধরে ফেলেন।

বালুরঘাটের পতিরাম এলাকার দশম শ্রেণীর ছাত্রী ২৫ নভেম্বর আত্মহত্যা করে। তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে দীর্ঘ দিন ধরে তাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে ওই গৃহশিক্ষকের বিরুদ্ধে। কয়েকদিন পর মৃত ছাত্রীর লেখা চিঠি থেকে ওই তথ্য স্পষ্ট হলে বাড়ির লোকেরা গৃহশিক্ষক সুজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তারপর থেকে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিলেন ওই গৃহশিক্ষক। এদিন ভোর থেকে এলাকায় ওঁত পেতে বসেছিলেন আইসি সঞ্জয়বাবু। সূত্রের খবর অনুযায়ী, অভিযুক্ত গৃহশিক্ষক বাইক চালিয়ে নাজিরপুর থেকে ঠাকুরপুরার পথে রওনা দিতেই আইসি তাকে ধরে ফেলেন।

বালুরঘাটের ডেপুটি পুলিশ সুপার(সদর) সৌম্যজিত বড়ুয়া বলেন, ‘‘ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল অভিযুক্ত গৃহশিক্ষকের। মৃত ছাত্রীর লেখা চিঠির বয়ান থেকে স্পষ্ট গৃহশিক্ষক তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করেন।’’ ধৃত গৃহশিক্ষকের বিরুদ্ধে নাবালিকা ছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা(৩০৫ ধারা) এবং পকসো আইনের ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ছাত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের কথা অবশ্য অস্বীকার করেন সুজন। তিনি বলেন, ‘‘আমি কিছু জানি না।’’ তবে তাঁর বিয়ের জন্য পাত্রী দেখা শুরু হয়েছিল বলে সুজনবাবু স্বীকার করেন। তা জেনেই ওই ছাত্রী আত্মঘাতী হয়েছে কি না, পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।

বেলতারা এলাকার বাসিন্দা সুজন কলা বিভাগে স্নাতক হলেও বিজ্ঞান পড়ানোই একমাত্র পেশা। কুমারগঞ্জ লাগোয়া বালুরঘাটের পতিরাম এলাকায় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে তিনি গৃহশিক্ষকতা করেন। সেখানেই পড়ত ওই ছাত্রীও।