জ্বর, ডেঙ্গির উপসর্গ নিয়ে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের ঘটনা। জ্বর, ডেঙ্গি সংক্রমণ নিয়ে প্রতিদিনই ৮০ থেকে ১০০ জন ভর্তি হচ্ছেন শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে। অভিযোগ, তাদের একাংশের চিকিৎসার জন্য বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে বলছেন চিকিৎসক, নার্সরা। বৃহস্পতিবার ডেঙ্গির উপসর্গ নিয়ে নিউ জলপাইগুড়ির মাইকেল মধুসূদন কলোনির সুষেণ অধিকারী, টিকিয়াপাড়ার বাসিন্দা প্রভাত সাহাদের মতো রোগীরা ভর্তি হয়েছেন। সুষেণবাবুদের ‘প্যারাসিটামল ইনফিউশন’ ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। বাইরে যার এক একটির দাম ৩০০ টাকার মতো। স্যালইনের সঙ্গে ওই ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাড়ির লোকেরা বাধ্য হয়েই বাইরে থেকে কিনে দিচ্ছেন।

তবে সরকারি হাসপাতালে এ ধরনের ওষুধ নিখরচায় মেলার কথা। কিন্তু তা কেন কিনতে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রোগীর আত্মীয় সবিতা অধিকারী, কৃপা সাহা, কৃষ্ণা সরকারদের অভিযোগ, ‘‘সরকারি হাসপাতালে নিখরচায় চিকিৎসা হবে বলেই অনেকে আসেন। বাইরে থেকে ওই ওষুধ কিনতে হলে, অনেকের পক্ষেই তা সম্ভব হবে না। তা ছাড়া, ওই ওষুধ প্রতিদিন একাধিক দরকার হচ্ছে।’’ ওই ওষুধ ছাড়াও স্যালাইনও অনেক ক্ষেত্রে কিনে আনতে বলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালের সুপার ছুটিতে থাকায় দায়িত্বে রয়েছেন জয়ন্ত হাঁসদা। তিনি বলেন, ‘‘এমন অভিযোগ আমাকে কেউ আগে জানায়নি। ওই ওষুধ বাইরে থেকে কেনার কথা নয়। কাদের কিনতে বলা হয়েছে, কেনই বা বলা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ তা ছাড়া যাঁরা কিনছেন, তাঁরা বিল দেখালে হাসপাতাল থেকেই যাতে সেই টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়, তা দেখা হবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

চিকিৎসকের পরামর্শে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনলেও বিল রেখে দিলে যে টাকা ফেরত মিলতে পারে, তা অনেকেই জানেন না। এমনকী বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বলার সময় হাসপাতাল থেকে রোগীর পরিবারকে তা জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে না কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চিকিৎসকদের কয়েকজন জানান, হাসপাতালে মজুত ওষুধ ফুরিয়ে গেলে অনেক সময় বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হয়। তবে সেই টাকা রোগীর পরিবার ফেরত পায়। ডেঙ্গি, জ্বর পরিস্থিতিতে চিকিৎসার জন্য ওই ওষুধ, স্যালাইন ফুরোনোর কথা নয় বলেই চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ওষুধ, স্যালাইন পর্যাপ্ত রয়েছে। কেন কিনতে বলা হয়েছে দেখা হচ্ছে।