গোটা দিন ভালই কাটছে৷ সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত দশটা-সাড়ে দশটা পর্যন্ত কোনও সমস্যা নেই৷ কিন্তু তারপরই শুরু হচ্ছে বাড়ির চালে ঢিল পড়া৷ গত কয়েকদিন ধরে চলা এই ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক গ্রামে৷ পুলিশ ডেকেও সমস্যা না মেটায় গ্রামের যুবকরাই রাত জেগে পাহাড়ায় নেমেছেন৷ তবু থামানো যায়নি ঢিল পড়া৷

এই ঘটনা মালবাজার মহকুমার ওদলাবাড়ির নতুন কলোনি এলাকার৷ জানা গিয়েছে, গত বুধবার এলাকারই একটি বাড়িতে চুরি হয়৷ তার পরের দিন থেকে ওই বাড়ি সমেত আশপাশের বাড়িতে শুরু হয় ঢিল পড়া৷ প্রতিদিন রাত দশটা-সাড়ে দশটা থেকে শুরু হচ্ছে এই ঢিল পড়ার ঘটনা৷ চলছে রাত প্রায় দেড়টা-দুটো পর্যন্ত৷

স্থানীয় বাসিন্দা তপন দাস বলেন, ঢিল এখনও কারও গায়ে লাগেনি। কিন্তু পাথরের যা আকার তাতে করে সেই ঢিলে ইতিমধ্যেই একটি বাড়ির টিন ফুটো হয়ে গিয়েছে৷ একটি বাড়ির বারান্দায় থাকা টেবিল-চেয়ারও ভেঙেছে৷ এলাকার আরেক বাসিন্দা মালতি পাল বলেন, ‘‘আচমকা এমন ঘটনায় আমরা সবাই আতঙ্কিত৷ প্রতিদিনই রাত হলে বাড়ির চালে ঢিল পড়ছে৷ ভয়ে রাতে ঘুমোতে পারছি না৷ সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে বাড়ির ছোটরা৷ রাত হলেই ভয়ে গুটিসুটি হয়ে পড়ছে তারা৷’’

এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পেয়ে গ্রামে মালবাজার থানার পুলিশ যায়৷ দু’দিন পুলিশ কর্মীরা রাত পাহাড়াও দেন৷ কিন্তু তাতেও ঢিল বন্ধ হয়নি৷ পুলিশের সামনেই রাতের বেলায় বাড়িগুলিতে ঢিল পড়তে থাকে৷ স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে প্রতিদিন রাত হলেই পাড়ার যুবকরা একত্রিত হয়ে গ্রামে পাহারা দিচ্ছেন৷ কিন্তু তাতেও কোন কাজ হচ্ছে না৷ ঢিল পড়েই চলছে৷

পুলিশ কর্তাদের অবশ্য দাবি অবশ্য দাবি, গত দু’দিন ধরে ওই এলাকায় ঢিল পড়া বন্ধ রয়েছে৷ যদিও তা মানতে চাননি স্থানীয় বাসিন্দারা৷ মালবাজারের এসডিপিও দেবাশিস চক্রবর্তী বলেন, কেউ বা কারা হয়তো বদমাশি করে এমনটা করছে৷ প্রতিদিনই ওই এলাকায় পুলিশ পাহাড়া দিচ্ছে৷ ঘটনায় জড়িতদের ধরার চেষ্টা করছে পুলিশ৷