দুই দলের দুই নেতার কাজিয়ায় স্কুলের অচলাবস্থা। এমন অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাল ছাত্ররাই। সোমবার ধূপগুড়ি হাইস্কুলে পড়ুয়ারা এসে স্কুলের দুই গেটে তালা লাগিয়ে, স্কুলের সামনে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়।

স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’বছর ধরে স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি ধূপগুড়ি পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক তথা বিজেপি নেতার কাজিয়ায় স্কুলে কোনও সভা হয়নি। বিভিন্ন খাতে স্কুলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা এসে পড়ে থাকলেও তা তোলা যাচ্ছে না। কারণ, স্কুলের টাকা তুলতে গেলে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর দরকার। এর ফলে স্কুলে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির ৯০০ পড়ুয়া কোনও সরকারি পোশাক পায়নি। মিড-ডে মিল খাওয়ার ঘর ভেঙে পড়ে থাকলেও তা মেরামত হয়নি। এ ছাড়া স্কুলের টেবিল বেঞ্চ ভেঙে পড়ে থাকলেও তা তৈরি হচ্ছে না। শ্রেণিকক্ষের ইলেকট্রিক তার ছিঁড়ে থাকায় পাখা চলে না। এই অচলাবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার দাবিতে সোমবার পড়ুয়ারা স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরে পুলিশ এসে অবরোধ তুলে দিয়ে গেটের তালা খুলে দেয়।

ধূপগুড়ি হাইস্কুল জেলায় ভাল স্কুল বলেই পরিচিত। মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিকেও এই স্কুলের পড়ুয়ারা জেলায় প্রথম সারিতে থাকে। সেই স্কুলে এমন অচলাবস্থায় ক্ষুব্ধ ছাত্ররা। এ দিন তারা সমস্বরে অভিযোগ করে বলে, “কার সঙ্গে কার ঝগড়া তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। আমরা স্কুলের পোশাক, মিড-ডে মিল খাওয়ার জায়গা, এনসিসির যারা টাকা পায় সেই সব বিষয়ে দাবি জানিয়েছি।”

প্রধানশিক্ষক অশোক মজুমদার অবশ্য স্কুলের এই অচলাবস্থার জন্য স্কুল শিক্ষার উচ্চ আধিকারিকদের দায়ী করেছেন। তিনি জানান, “পরিচালন কমিটির সভাপতি সভায় আসেন না। সব ঘটনা আমি স্কুল পরিদর্শক সহ উচ্চ আধিকারিকদের বার বার জানিয়েছি। ছাত্রদের দাবি সঙ্গত। তারা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আছে দু’বছর ধরে।”

স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি অরূপ দে পাল্টা বলেন, “এ জন্য দায়ী প্রধান শিক্ষক ও স্কুল পরিদর্শক। প্রধান শিক্ষকের যে দুর্নীতি করছেন তা তদন্ত করার জন্য পরিচালন কমিটির পক্ষ থেকে স্কুল পরিদর্শক, জেলাশাসককে অভিযোগ জানিয়ে। তারা তদন্ত না করে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন।” স্কুল পরিদর্শক স্বপন সামন্ত বলেন, ‘‘দু’পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। স্কুলের পরিস্থিতি নিয়েও পরিচালন কমিটি ও প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”