জালনোট, গরু পাচার থেকে শুরু করে কাফ সিরাপ। এ সব পাচারের করিডর হিসেবে মালদহের সীমান্তবর্তী এলাকাকে ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হল গেকোও।
বৃহস্পতিবার রাতে পাচারের আগেই গেকো সমেত এক কারবারিকে আটক করল বিএসএফ।  বৈষ্ণবনগরের পিটিএস মোড় এলাকায় ওই ঘটনায় ধৃতের নাম নাসিরুদ্দিন শেখ। সে কালিয়াচকের সুলতানগঞ্জের মাস্টারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ দিন ধৃতকে মালদহ আদালতে পেশ করে হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার তাকে বন দফতরের হাতে তুলে দেয় বিএসএফ। জেলায় প্রথম গেকো পাচারের চেষ্টার ঘটনায় ঘটায় উদ্বিগ্ন বন দফতরের কর্তারা। মালদহের ডিএফও কৌশিক সরকার বলেন, “ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হবে।” 
মালদহের বৈষ্ণবনগর, কালিয়াচকের সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায়ই জালনোট, গরু এবং কাফ সিরাপ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। কালিয়াচক, বৈষ্ণবনগর থানার সীমান্তের একাংশ উন্মুক্ত। সেই সুযোগ নিয়ে কারবারীরা পাচারের কারবার চালায়। এ বার সেই রুট দিয়েই গেকোও পাচারের পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিক অনুমান বিএসএফ কর্তাদের।
জানা গিয়েছে, ওইদিন পিটিএস মোড়ে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হানা দেন বিএসএফের ২৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানেরা। ঘটনায় নাসিরুদ্দিন শেখ নামে ওই যুবককে আটক করে উদ্ধার করা হয় দুটি গেকো। বিএসএফ জানিয়েছে, গেকো দু’টির ওজন ১৫০ ও ১৫২ গ্রাম। ঘটনায় একটি চক্র জড়িত আছে বলে অনুমান বিএসএফ কর্তাদের। এক কর্তা বলেন, ওই যুবকের সঙ্গে আরও একজন ঘটনাস্থলে ছিল। ধরপাকড় দেখে সে পালিয়ে যায়।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গরুমারা, মাদারিহাট জঙ্গলে গেকো পাওয়া যায়। সেখান থেকেই সেগুলি নিয়ে আসা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। মালদহ হয়ে বাংলাদেশে পাচারের পরিকল্পনা ছিল সেগুলিকে। এ দিন ধৃতকে আদালতে পেশ করে সেই চক্রের খোঁজ করা হবে বলে জানিয়েছেন বন দফতরের কর্তারা। তাঁরা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া গেকোগুলো গরুমারা বা মাদারিহাটের জঙ্গলে ছাড়া হবে।