হপ্তাখানেক পরেই হোটেল ম্যানেজমেন্ট পড়তে তমলুক চলে যাওয়ার কথা তুহিনের। তার আগেই দামোদরে তলিয়ে নিখোঁজ হয়ে গেলেন তিনি।

সোমবার দুপুরে সোনামুখী ব্লকের পূর্ব পাত্রহাটি গ্রামে তুহিনদের বাড়িতে পোঁছে দেখা গেল থমথম করছে পরিবেশ। ভিতরে পড়শিদের ভিড় ভেঙে পড়েছে। কিন্তু বাইরে থেকে কোনও সাড়াশব্দ নেই। আত্মীয়রাও খবর পেয়ে চলে এসেছেন।

তুহিনের বাবা হিরণ্ময় কোলে কোলডাঙা প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি জানান, স্কুলে প্রার্থনার পরেই ফোনে তাঁর কাছে খবরটা আসে। তাঁর আক্ষেপ, ‘‘সাঁতার জানত ছেলেটা। তার পরেও এমনটা হয়ে গেল!’’ বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন তুহিনের মা তৃপ্তি কোলে।

তুহিন এই বছর উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন সোনামুখীর নবাসন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। তমলুকের বেসরকারি কলেজে হোটেল ম্যানেজমেন্ট নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। ২৮ তারিখ তমলুক চলে যাওয়ার কথা তাঁর। তার আগে সোমবার সকালে দুই দাদার সঙ্গে মাছ ধরতে রণডিহায় দামোদরের চেক ড্যামে গিয়েছিলেন বছর আঠেরোর তুহিন। তাঁদের একজন বছর সাতাশের সুব্রত বেরা। তুহিনের মাসতুতো ভাই। তুহিনদের বাড়িতে থেকেই তিনি এ বছর বিষ্ণুপুর কেজি পলিটেকনিক কলেজ থেকে পাশ করেছেন। অন্য জন অচিন্ত্য কোলে। তুহিনের জেঠতুতো দাদা। সেনায় চাকরি করেন। শ্রীনগরে পোস্টিং। ছুটিতে বাড়িতে এসেছেন বছর পঁয়ত্রিশের অচিন্ত্য।

চেক ড্যামের এক দিকে সোনামুখী ব্লকের নিত্যানন্দপুর গ্রাম। অন্যদিকে পূর্ব বর্ধমানের কাঁকসা। অনেক ক্ষণ চেষ্টা করেও মাছ না পেয়ে তিন জন যখন পাড়ে ফিরছেন, ঘুর্ণিতে পড়ে তলিয়ে যান তুহিন। সুব্রত এবং অচিন্ত্যর আক্ষেপ, তাঁরা মানা করা সত্বেও সোজা পাড়ের দিকে সাঁতরাতে গিয়ে ঘুর্ণিতে পড়েন তুহিন। তার আগে চিৎকার করে উঠেছিলেন, ‘‘দাদা বাঁচাও। আর পারছি না।’’ এখনও চোখ বন্ধ করলেই সেই দৃশ্যটা দেখতে পাচ্ছেন সুব্রত এবং অচিন্ত্য। থম হয়ে রয়েছেন তাঁরা।

পড়শি রোহিত বাগদি, তুলসী কারকেরা বলেন, ‘‘খবুই মিশুকে ছেলে তুহিন। পাড়ায় সবাই ওকে খুব ভালবাসে। সবার সব কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে।’’ প্রাণবন্ত ছেলেটি নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন সবাই।